কারিগরি শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও দক্ষতা বিকাশে আয়োজিত ‘স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন’-এর সিলেট অঞ্চলের আঞ্চলিক পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল)পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে এ পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে সিলেট অঞ্চলের ১৪টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মোট ৪২টি উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে। এর মধ্য থেকে সেরা তিনটি প্রকল্প জাতীয় পর্বে অংশগ্রহণের জন্য মনোনীত হয়েছে।
নির্বাচিত প্রকল্পগুলো হলো- সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ‘স্মার্ট হোম ইকো সিস্টেম’, মৌলভীবাজার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ‘ফেস ডিটেক্টর’ এবং হবিগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ‘স্মোক অ্যান্ড ফিউম কনট্রোলিং ওয়েল্ডিং হেলমেট’।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর বাস্তবায়নাধীন ‘একসেলেরাটিং এন্ড স্ট্রেঞ্জথেনিং স্কিলস ফর ইকোনমিক ট্রান্সফরমেশন (এএসএসইটি) প্রকল্পের উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতার লক্ষ্য ছিল কারিগরি শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতাকে উৎসাহিত করা এবং তাদের উদ্ভাবনগুলো বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া (এনডিসি)। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী। স্বাগত বক্তব্য দেন এএসএসইটি প্রকল্পের পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) সামসুর রহমান খান।
এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ রিহান উদ্দিন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতা সিদ্দিকী, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সুধীজন। এএসএসইটি প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী রবীন্দ্রনাথ মাহাত এ সময় একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী দক্ষ জনশক্তির ব্যাপক চাহিদা থাকলেও বাংলাদেশ এখনো সেই চাহিদা পূরণে পিছিয়ে রয়েছে। তিনি বলেন, সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে এবং দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বিশ্ব শ্রমবাজারে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নতুন উদ্ভাবনে পারদর্শী হতে হবে এবং নিজ নিজ অঞ্চলের সমস্যার সমাধান নিজেদেরই করতে হবে। এ লক্ষ্যে কারিগরি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সচিব মো. দাউদ মিয়া বলেন, কারিগরি শিক্ষা এখন আর বিকল্প নয়, বরং সময়ের প্রয়োজন। ‘একটাই লক্ষ্য হতে হবে দক্ষ’ এই মূলমন্ত্র সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিযোগিতা উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি, সেমিনার এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উন্মুক্ত এ আয়োজনে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অংশগ্রহণ করেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিল্পখাতের প্রতিনিধি ও সাধারণ দর্শনার্থীরা।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী ২১১টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে অনুষ্ঠিত প্রাতিষ্ঠানিক পর্বে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী ৩ হাজার ২০৯টি উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে। সেখান থেকে বাছাইকৃত প্রকল্পগুলো নিয়ে আঞ্চলিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগামী মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পর্বে দেশের ৮টি অঞ্চল থেকে নির্বাচিত প্রায় ৫০টি প্রকল্প অংশ নেবে। চূড়ান্ত পর্বে বিজয়ীদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরস্কার।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন