× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

ইবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মে ১১, ২০২৬, ০৯:০৩ পিএম

প্রশাসনের গাফিলতিতে সনদ উত্তোলনে ভোগান্তির শিকার ইবি শিক্ষার্থীরা

ইবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মে ১১, ২০২৬, ০৯:০৩ পিএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

সম্প্রতি কাগজ শেষ হয়ে যাওয়ায় কয়েক মাস ধরে একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট প্রদান বন্ধ আছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে। নির্ধারিত ফি জমা দিয়েও দিনের পর দিন অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত সনদ পাচ্ছেন না শিক্ষার্থীরা। এতে উচ্চশিক্ষা, চাকরি, স্কলারশিপ আবেদন, ভিসা প্রসেসিংসহ জরুরি কাজে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা।

অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবহেলা ও গাফিলতির কারণে পড়াশোনা শেষ করে সনদপত্র উত্তোলনে ভয়াবহ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে নতুন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দায়িত্বে এলেও প্রশাসনিক গাফিলতিতে ভোগান্তির চক্রে আটকে আছে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ।

শিক্ষার্থীদের অনার্স ও মাস্টার্স শেষে বিভাগের ফলাফল প্রকাশের কপি, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, নম্বরপত্র ও সনদপত্র প্রদানের কাজ করে থাকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর। সাধারণভাবে আবেদনের ১৫ দিনের মধ্যে এবং জরুরি আবেদনের ৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় সনদপত্র প্রদানের নিয়ম রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

নির্ধারিত ফি দিয়ে আবেদন জমা দিলেও ট্রান্সক্রিপ্ট প্রিন্টের কাগজ শেষ হয়ে যাওয়ায় এটি প্রদান বন্ধ রেখেছে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর। বারবার তাগাদা দিলেও কাগজ কেনার বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি। এতে স্থবির হয়ে গেছে ট্রান্সক্রিপ্ট প্রদান প্রক্রিয়া, ফলে চাকরির আবেদনসহ বিভিন্ন কাজে হেনস্তা হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের নভেম্বরের শেষ দিকে ট্রান্সক্রিপ্ট প্রিন্টের কাগজ ফুরিয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে হাতে সময় রেখেই কাগজ কেনার জন্য চাহিদাপত্র দেয় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর। তবে সরাসরি বাজেট অনুমোদন না দিয়ে কাগজ কেনায় অনিয়ম হতে পারে, এমন আশঙ্কায় উপাচার্যের কাছে ট্রান্সক্রিপ্ট প্রিন্টের কাগজের মান ও দাম যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি কমিটি গঠনের সুপারিশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম।

পরবর্তীতে উপাচার্য ড. নকীব নসরুল্লাহ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. আলীনূর রহমানকে আহ্বায়ক ও ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. পিকুলকে সদস্য সচিব করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন। তবে কমিটি দায়িত্ব পাওয়ার পর বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত কাজ না করায় এবং সময়মতো বৈঠক না হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়। এরই মধ্যে রোজা ও ঈদের ছুটি শুরু হলে কমিটির কার্যক্রম আরও বিলম্বিত হয়।

এদিকে কাগজ সংকট থাকলেও সনদ উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ফলে সীমিত আকারে ট্রান্সক্রিপ্ট প্রদান চালু রাখা হয়। কিন্তু একপর্যায়ে কাগজ একেবারে শেষ হয়ে গেলে ট্রান্সক্রিপ্ট প্রিন্ট সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন শিক্ষার্থীরা।

আইন বিভাগের ফজলে রাব্বি রিমন বলেন, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সনদ ও নম্বরপত্র উত্তোলন এক আতঙ্কের নাম। ফি জমা দিয়েও সময়মতো সনদ না পাওয়া, কারিগরি ও সফটওয়্যার জটিলতা, তথ্যগত ভুল—সবই নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কাগজ কেনাও হচ্ছে না। এতে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় ও চাকরির সুযোগ নষ্ট হচ্ছে।’

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. ওয়ালিউর রহমান পিকুল বলেন, ‘গত নভেম্বরে আমরা কাগজ কেনার চাহিদাপত্র দিয়েছি, কিন্তু এখনো অনুমোদন না আসায় কেনা সম্ভব হয়নি। সাধারণত ট্রেজারার স্যারের মাধ্যমে ভাইস চ্যান্সেলরের অনুমোদন নিয়ে ক্রয় কমিটির মাধ্যমে কাগজ কেনা হয়। কিন্তু এবার একটি কমিটি করা হয়েছে, যারা এখনো রিপোর্ট দিতে পারেনি। আমি একাধিকবার প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি। আশা করছি, আগামী সপ্তাহ থেকে ট্রান্সক্রিপ্ট প্রদান শুরু করা যাবে।’

ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘৫০ হাজার টাকার নিচে কাগজ কিনতে হলে ক্রয় কমিটির অনুমোদনেই হয়ে যায়। তবে আমি চাই বড় পরিসরে কাগজ কেনা হোক, যাতে ঘন ঘন সংকট না হয়। এজন্য কমিটি করা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে কাগজ অর্ডার দেওয়া হয়েছে, দ্রুতই সংকট কেটে যাবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নকীব নসরুল্লাহ বলেন, ‘ট্রান্সক্রিপ্টের কাগজের চাহিদাপত্র এসেছিল, আমি আগেই স্বাক্ষর করে দিয়েছি। কেন এখনো কাগজ কেনা হয়নি তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কমিটি দ্রুতই কাগজ সংগ্রহ করবে। আশা করছি আগামী সপ্তাহ থেকেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।’

Link copied!