জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দর্শন বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে দ্বিতীয় পুনর্মিলনী-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ জুন) সকাল সাড়ে ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে এ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সকালে অ্যালামনাইদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে এসে শেষ হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আজকের এই আয়োজনের যথার্থতা সকলের বন্ধনের দর্শনে অনন্য। আত্ম-অনুসন্ধানের চিরন্তন যে প্রচেষ্টা, অবিরাম যে যাত্রা তার নামই দর্শন। আমরা মানুষ; আমাদের সৃষ্টি কীভাবে হলো, পৃথিবীতে আমাদের কাজ কী, জীবনের শেষ যাত্রা কোথায়, মৃত্যুর পর কী ঘটে—এসব গভীর চিন্তার নামই দর্শন।
তিনি আরও বলেন, পৃথিবীর যত সুন্দর, সত্য, মহানুভবতা ও মানবতার জয়গান রয়েছে, তা যুগ যুগ ধরে দর্শন শিক্ষা দিয়ে আসছে। দর্শন ছাড়া মানবসভ্যতার বিকাশ ও উন্নয়ন সম্ভব হতো না। দার্শনিকদের কাজ হলো সত্য ও সুন্দরের অনুসন্ধান করা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করা।
উপাচার্য বলেন, যারা আমাদের জাতিসত্তাকে হেয় করতে চায়, বিপন্ন করতে চায়, জাতীয় সংগীতকে অবমাননা করতে চায়, জাতীয় পতাকাকে অপমান করতে চায় কিংবা দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলে তাদের সঙ্গে কোনো আপস নয়। এগুলোই দর্শনের মৌলিক শিক্ষা।
তিনি দর্শন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাইদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিখ্যাত দার্শনিকদের দর্শন তত্ত্বের মূল ভিত্তি নিয়ে আরও গবেষণা করতে হবে। নিজস্ব দর্শনকে আত্মস্থ করে একজন প্রকৃত দার্শনিককে হতে হবে নির্মোহ, সত্যনিষ্ঠ এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার। দর্শন নিয়ে যে বিতর্ক রয়েছে, তা চিহ্নিত করে সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণেও বিভাগের অ্যালামনাইদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আরজুমন্দ আরা বানু। এছাড়াও দর্শন বিভাগের সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন দর্শন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সিত্তুল মুনা হাসান। তিনি পুনর্মিলনী আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরে বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পুনর্মিলনী আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক খন্দকার আমিনুল হক কাকন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব নজরুল ইসলাম মামুন।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে বিভাগের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা স্মৃতিচারণ, মতবিনিময় এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বিনিময়ের মাধ্যমে পুনর্মিলনীর আনন্দ ভাগাভাগি করেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন