চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সাবেক সহকারী প্রক্টর হাসান মুহাম্মদ রোমান শুভকে আটক করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আওয়ামীপন্থি এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় সংঘটিত গণহত্যাকে সমর্থন দেওয়া এবং ফ্যাসিবাদী শক্তির সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রাখার অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।
শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে দায়িত্ব পালনের জন্য ক্যাম্পাসে এলে শিক্ষার্থীরা তাকে ধাওয়া দিয়ে আটক করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সহকারী অধ্যাপক হাসান মুহাম্মদ রোমান ভর্তি পরীক্ষার হলে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনটি পৃথক তদন্ত চলমান রয়েছে। প্রশাসনের দেওয়া চিঠির ভিত্তিতে তিনি ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্ব পালনে ক্যাম্পাসে আসেন। বিষয়টি জানতে পেরে চাকসুর প্রতিনিধিরা তাকে আটক করতে এগিয়ে যান। এ সময় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি আইন বিভাগের পেছনের একটি রাস্তা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন।
চাকসুর আইন বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি তৌহিদ বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত গণহত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে আইন অনুষদের সহকারী অধ্যাপক হাসান মুহাম্মদ রোমান শুভের বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগ আমলে সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যুক্ত শিক্ষার্থীদের ‘জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে মামলা করেন। আইন অনুষদের শিক্ষার্থী জুবায়েরের বিরুদ্ধেও এ ধরনের মামলা করা হয়েছিল।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত শিক্ষক ছাত্রলীগকে সরাসরি সহায়তা করতেন এবং বিভিন্ন সহিংস কর্মকাণ্ডে দিকনির্দেশনা দিতেন।
জানা যায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় গণহত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন ওই শিক্ষক। তদন্ত চলমান থাকা সত্ত্বেও ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্ব পেয়ে তিনি ক্যাম্পাসে আসেন। শিক্ষার্থীরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পড়ে গেলে শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান।

