প্রশ্নফাঁস, ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে জালিয়াতিসহ নানা অভিযোগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছেন একদল নিয়োগপ্রত্যাশী। এবার তাদের দাবি আমলে নিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। বলা হচ্ছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে বাতিল হবে পরীক্ষা।
দেশের একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবু নূর মো. শামসুজ্জামান।
প্রাথমিকের ডিজি বলেন, ‘পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত ডিজিএফআই, এনএসআই, ডিবি, এসবি এবং জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে যে সকল প্রশ্ন উদ্ধার করা হয়েছিল, সেগুলোর সাথে আমাদের প্রশ্নের কোনো মিল ছিল না। তবে প্রশ্নফাঁসের চেষ্টা হয়েছে, এটা অস্বীকার করা যাবে না।’
তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষায় নকলের চেষ্টা হয়েছে। তবে এটি প্রশ্নফাঁস না। এই নকলের দায়ে ২০৭ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অনেক জায়গায় মামলা হয়েছে, অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজাও দেওয়া হয়েছে।’
পরীক্ষা বাতিলের দাবির বিষয়ে মহাপরিচালক বলেন, ‘চাকরিপ্রার্থীরা আমাদের কাছে পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। আমরা তাদের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে বিষয়টি তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে পরীক্ষা বাতিল করা হবে। এর আগেও দুটি পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছিল।’
এর আগে রোববার (১১ জানুয়ারি) দুপুরের দিকে রাজধানীর মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রধান ফটকে পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন একদল চাকরিপ্রার্থী। সেখানে তারা নানান স্লোগান দিয়ে পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানান।
আন্দোলনকারীদের দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো:
সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করে দ্রুত পরীক্ষা নিতে হবে। সকল চাকরির পরীক্ষা ঢাকায় নিতে হবে এবং প্রতিটি কেন্দ্রে ডিভাইস চেকার ও নেটওয়ার্ক জ্যামার রাখতে হবে। স্বতন্ত্র কমিটি গঠন করতে হবে এবং তার আওতায় সকল পরীক্ষা নিতে হবে।
একই দিনে একই সময়ে একাধিক পরীক্ষা নেওয়া যাবে না। যেসব প্রতিষ্ঠানে বিগত সালে পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের রেকর্ড আছে, তাদের কোনোভাবেই প্রশ্ন প্রণয়ন করার দায়িত্ব দেওয়া যাবে না।
প্রশ্নফাঁস হওয়ার তথ্য প্রমাণিত হলে জড়িত সবাইকে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং প্রশ্ন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান প্রধানকে স্বেচ্ছায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ করতে হবে।


