সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে প্রশ্নফাঁসের যে অভিযোগ চাকরিপ্রার্থীরা তুলেছেন, তার কোনো ‘বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ’ পায়নি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। ফলে এ পরীক্ষা বাতিল হচ্ছে না। এখন পুরোদমে ফল প্রস্তুতের কাজ চলছে। শিগগির ফলাফল প্রকাশ করা হবে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবু নূর মো. শামসুজ্জামান ও পলিসি অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগের পরিচালক এ কে মোহম্মদ সামছুল আহসানের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় (পার্বত্য অঞ্চলের ৩ জেলা বাদে) একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন প্রায় পৌনে ১১ লাখ চাকরিপ্রার্থী। এ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে জালিয়াতির ঘটনায় ২০৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অধিদপ্তরের ডিজি জানান, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হয়েছে। কিন্তু যেসব প্রশ্নপত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো হয়েছিল, তার সাথে মূল প্রশ্নের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ, এটি ছিল নিছক গুজব। জালিয়াতি চক্রের সদস্যরা ইতোমধ্যে আইনের আওতায় আসায় পরীক্ষা বাতিলের আর কোনো প্রশ্ন নেই।
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে। তবে অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আগামী রোববার (১৮ জানুয়ারি) ফলাফল প্রকাশের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। টেকনিক্যাল টিম দিন-রাত কাজ করছে যাতে দ্রুততম সময়ে ফল প্রকাশ করা যায়।
লিখিত পরীক্ষার পর কতজনকে মৌখিক পরীক্ষায় ডাকা হবে তা নিয়েও প্রার্থীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতুহল রয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, জেলাভিত্তিক মোট শূন্য পদের বিপরীতে তিনগুণ প্রার্থীকে ভাইভায় ডাকা হবে।
উদাহরণস্বরূপ, কোনো জেলায় ৬০টি পদ শূন্য থাকলে সেখানে সর্বোচ্চ নম্বরধারী ১৮০ জনকে ভাইভার জন্য নির্বাচিত করা হবে। কোটাধারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রেও একই তিনগুণ পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে।
লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশের ৭ থেকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে মৌখিক পরীক্ষা শুরু হতে পারে। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে ভাইভা অনুষ্ঠিত হবে। আশা করা যাচ্ছে, ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে অর্থাৎ আগামী ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই চূড়ান্ত ফল প্রকাশ এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

