ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)-এ নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ ও ব্লকেড কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ।
সোববার (১৮ মে) সকাল থেকেই স্লোগানে স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস।
সকাল ৮টার পর বিভিন্ন আবাসিক হল থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন ও প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হন। পরে তারা নবনিযুক্ত ভিসির বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন প্রবেশপথে অবস্থান নিয়ে ব্লকেড কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
এর আগে শনিবার রাতে শিক্ষার্থীরা এক ভিডিও বার্তায় নতুন ভিসির নিয়োগ বাতিলের দাবিতে কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী মনির হোসেন বলেন, গতকাল আমাদের শিক্ষার্থীদের রক্ত ঝরিয়েছে নবনিযুক্ত ভিসি মোহাম্মদ ইকবাল। এমন রক্তখেকো ভিসিকে কোনোভাবেই ডুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেবে না শিক্ষার্থীরা।
আরেক শিক্ষার্থী মাহাতাব উদ্দিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর থেকে যোগ্য কোনো শিক্ষককে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রবেশপথ বন্ধ রাখবে শিক্ষার্থীরা।
তবে সোমবার ভিসির সমর্থক কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার আশপাশে দেখা যায়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ডুয়েটের কয়েকজন সিনিয়র সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীর সঙ্গে আলোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করতে পারেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল।
এ বিষয়ে জানতে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) বেলায়েত হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, শনিবার নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল ক্যাম্পাসের কার্যালয়ে প্রবেশ করতে গেলে শিক্ষার্থীদের অবরোধ ও পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে তিনি কার্যালয়ে যেতে পারেননি। এ সময় ভিসির প্রবেশকে কেন্দ্র করে ত্রিমুখী সংঘর্ষে শিক্ষার্থী ও পুলিশসহ অন্তত ২৫ জন আহত হন। এরপর থেকেই ডুয়েট ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।


