× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

বেরোবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: এপ্রিল ২০, ২০২৬, ০৪:২১ পিএম

বেরোবিতে খেলা চলাকালীন নারী খেলোয়াড়কে ইভটিজিং ও অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির অভিযোগ

বেরোবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: এপ্রিল ২০, ২০২৬, ০৪:২১ পিএম

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি)-তে শারীরিক শিক্ষা বিভাগের আয়োজিত ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ম্যাচ চলাকালীন এক নারী খেলোয়াড়কে ইভটিজিং, বুলিং ও অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির অভিযোগ উঠেছে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে।

রোববার (১৯ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ বনাম পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের নারী দলের ম্যাচে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের এক নারী খেলোয়াড় বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগপত্রে দলের অধিনায়ক ও টিম কোচও স্বাক্ষর করেন।

অভিযোগপত্রে ওই নারী শিক্ষার্থী উল্লেখ করেন, ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারে বল করার সময় পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের দর্শকদের পক্ষ থেকে তিনি অকথ্য স্লেজিং, বুলিং ও হ্যারাসমেন্টের শিকার হন। বিষয়টি আম্পায়ারকে জানালে তিনি বলেন, ‘স্লেজিং খেলার অংশ, তুমি খেলা চালিয়ে যাও।’

তিনি আরও জানান, চতুর্থ ওভারের চতুর্থ বলে কৃষ্ণচূড়া রোডসংলগ্ন বাউন্ডারির পাশে অবস্থানরত মতিউর, মিঠুসহ কয়েকজন তাকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় বুলিং, বডি শেমিং, ইভটিজিং ও ফিমেল হ্যারাসমেন্ট করেন। একপর্যায়ে উচ্চস্বরে বলা হয়, ‘আম্পায়ারের বোলারকে পছন্দ হয়েছে’, যা আম্পায়ারের নজরে এলে তিনি তাদের সতর্ক করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, এরপরও ব্যক্তিগতভাবে নানা অশোভন মন্তব্য করা হয়। প্রতিবাদ করলে মিত্তির নামের এক শিক্ষার্থী তাকে মারতে তেড়ে আসে এবং হুমকি দিয়ে বলে, ‘আমাকে চিনিস, আমি কে?’ পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে তার টিমমেট ও সহপাঠীরা এগিয়ে এলে তাদের ওপর পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা হামলা চালায় এবং কয়েকজন আহত হন।

খেলা পুনরায় শুরু করা যাবে কি না, সে বিষয়ে আলোচনা চলাকালে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. বকুল কুমার চক্রবর্তী ক্ষিপ্ত হয়ে স্ট্যাম্প তুলে মাঠে ছুড়ে ফেলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এ সময় ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মহুয়া শবনম পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক তানিয়াও তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগপত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী র‍্যাগিং, বুলিং, ফিমেল হ্যারাসমেন্ট, বডি শেমিং ও ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। অভিযোগকারী জানান, ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের নারী দল পরবর্তী কোনো ম্যাচে অংশ নেবে না।

এছাড়া ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগকে টুর্নামেন্টের সব ধরনের খেলা থেকে বিরত রাখা এবং বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন ও নির্যাতন প্রতিরোধ সেলের মাধ্যমে তদন্তের দাবিও জানানো হয়।

এ বিষয়ে ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের নারী দলের অধিনায়ক এশরাত উন নিগার এনি বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ফিমেল হ্যারাসমেন্ট, বডি শেমিং ও ইভটিজিংয়ের বিচার চাই।’

স্ট্যাম্প তুলে মাঠে ছুড়ে ফেলার বিষয়ে অভিযুক্ত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. বকুল কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি খেলাটি চালিয়ে যেতে এবং সুন্দরভাবে শেষ করতে। সবাই আমাদের শিক্ষার্থী। কিন্তু আলোচনার মধ্যে যখন ওই বিভাগের শিক্ষক আমাদের শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ফিমেল হ্যারাসমেন্টের মামলা ও তাৎক্ষণিক দুই বছরের বহিষ্কারের দাবি তোলেন, তখন আমি ক্ষুব্ধ হয়ে স্ট্যাম্প তুলে মাঠে ছুড়ে ফেলি।’

অভিযুক্ত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মতিউর বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে তেড়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। অথচ ভিডিও ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, আমরা নিজেদের জায়গাতেই ছিলাম। তাদের বোলার ও আরও দুইজন আমার ওপর তেড়ে আসে। আমাকে ‘টোকাই’ বলে চড়-থাপ্পড় মারতে আসে। আমি যথেষ্ট ধৈর্য ও ভদ্রতার পরিচয় দিয়েছি বলেই তাদের দিকে তাকাইনি। অথচ যেসব ঘটনা আমরা করিনি, সেগুলোই আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, চাইলে আমরাও অভিযোগ করতে পারতাম। কিন্তু তাদের বিভাগে আমাদের অনেক ভাই ও বন্ধু আছে, ভালো সম্পর্ক আছে, তাই করিনি। আমাদের ধারণা ছিল ২–৪ দিনের মধ্যে বিষয়টি মিটে যাবে। বরং তাদের বিভাগের শামিম আমাদের মিঠুকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে। তাদের অভিযোগের অনেক ঘটনাই তারাই ঘটিয়েছে। আমাদের কাছে প্রমাণ আছে, তাদের ছেলেদের হাতে লাঠি, স্ট্যাম্প ও গাছের ডাল ছিল। আমরাও বিভাগে গিয়ে অভিযোগ দেব।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘আমরা একটি অভিযোগপত্র পেয়েছি। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

Link copied!