হামের প্রকোপে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে দেশ। এই রোগে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত শতাধিক শিশু মারা গেছে। আক্রান্ত হয়েছে হাজারেরও বেশি। এ পরিস্থিতিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো এ বন্ধের আওতায় আসতে পারে।
সম্প্রতি এ বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী লতিফ জাহান পূর্ণিমা এ রিট করেন। রিটে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনে হামে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত করে আদালতের কাছে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে, যে প্রতিবেদনে মৃত্যুর সংখ্যা, সংক্রমণের পরিমাণ, টিকাদানের হার, টিকার প্রাপ্যতা, গৃহীত পদক্ষেপসমূহ উল্লেখ থাকবে।
পাশাপাশি টিকাদান কাভারেজ নিশ্চিত করতে ব্যর্থতা, টিকার ঘাটতি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় বিলম্বের কারণ নির্ধারণের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ, স্বাধীন ও সময়সীমাবদ্ধ তদন্ত পরিচালনা করার নির্দেশনা চাওয়া হয়। এ ছাড়া টিকাদানে কেন সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি তার ব্যাখ্যা এবং সেই তদন্তের ফলাফল আদালতের সামনে উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে।
যদিও হাইকোর্টে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের রিটের ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তবে সর্বশেষ আলোচনা থেকে প্রতিমন্ত্রী জানান, অনলাইন ক্লাসের দিকে যাবে না প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সোমবার (৬ এপ্রিল) প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নসহ বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নের ব্যাপারে রাজধানীর মিরপুরে বিভিন্ন স্কুল পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা জানান।
এদিকে শিক্ষক, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দেশে যেভাবে হামের প্রকোপ ছড়াচ্ছে সেটি আরও ভয়ংকর রূপ ধারণ করতে পারে। এ অবস্থায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলছেন তারা। আবার কেউ কেউ বলছেন, হামের প্রকোপের ভয়াবহতা বিবেচনায় রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অন্যথায় জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়তে পারে।
বিআরবি হাসপাতালের চিকিৎসক ফারহানা ইভা বিন্দু রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘কিছুদিনের জন্য হলেও প্রাথমিক লেভেলের যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো রয়েছে সেগুলো বন্ধ রাখা উচিত। কারণ সরকার যে টিকা দেওয়া শুরু করেছে সেটা কাজ করতেও ১৫ থেকে ৩০ দিন সময় লেগে যেতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে ছড়ায়। এ কারণে শিশুদের এ বিষয়ে সচেতন করতে হবে। কারণ রোগটিতে আক্রান্ত হলে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে এবং সে কারণে নিউমোনিয়ায় ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হয়।’
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় কম করে হলেও দুই মাস প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখা উচিত। নয়তো ক্লাসের সময় কমিয়ে পাঠদান করা যেতে পারে।




