বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে কোনো কোনো নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল রেকর্ড পর্যায়ে, আবার কোনো নির্বাচনে তা নেমে এসেছে সর্বনিম্ন পর্যায়ে। একই সঙ্গে কিছু নির্বাচনকে তুলনামূলকভাবে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য বলা হলেও বেশ কয়েকটি নির্বাচন নিয়ে রয়েছে একতরফা ও অগ্রহণযোগ্যতার অভিযোগ।
অতীতের বেশ কিছু নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন চিত্র এবং তার পটভূমি নিয়েই আমাদের এ প্রতিবেদন।
দেশের ইতিহাসে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল সবচেয়ে বিতর্কিত। এমনটাই দাবি বিশ্লেষকদের। যদিও এই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি দেখানো হয় শতকরা ৮০ দশমিক ২০ শতাংশ।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের অধীনে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে বিএনপিসহ ৩৯টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। তবে ব্যাপক কারচুপি, আগের রাতে ভোট দেওয়ার অভিযোগ এবং ‘রাতের ভোট’ বিতর্কে নির্বাচনটি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে।
সবচেয়ে কম ভোটার উপস্থিতি দেখা যায় ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। ওই নির্বাচনে ভোটার ছিলেন পাঁচ কোটি ৬১ লাখের বেশি। এর মধ্যে ভোট পড়ে মাত্র ২৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ। বিএনপি সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনটি অধিকাংশ বিরোধী দল বর্জন করে। বিএনপি এককভাবে ২৭৮টি আসনে জয় পেলেও মাত্র ১২ দিনের মাথায় সংসদ ভেঙে যায়। পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু হয়।
তুলনামূলক গ্রহণযোগ্য নির্বাচনগুলো
বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনগুলো তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত।
১৯৯১ সালে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে প্রথম নির্বাচন। ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫৫ শতাংশের বেশি।
১৯৯৬ সালে ভোট পড়েছিল প্রায় ৭৫ শতাংশ। আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে।
২০০১ সালে জয়ী হয় বিএনপি। ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ।
২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হয় সর্বশেষ নির্বাচন। ভোট পড়ে ৮৭ দশমিক ১৩ শতাংশ, যা গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্যে সর্বোচ্চ।
একতরফা ও বিতর্কিত নির্বাচন
২০১৪ সালের দশম নির্বাচনে বিএনপিসহ অধিকাংশ দল ভোট বর্জন করে। ১৫৪টি আসনের প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। নির্বাচন কমিশনের হিসাবে ভোটার উপস্থিতি ৪০ শতাংশের মতো হলেও বিভিন্ন সংস্থার মতে বাস্তবে তা ছিল ১০ শতাংশের কাছাকাছি।
২০১৮ সালের একাদশ নির্বাচন ছিল বিতর্কিত।
২০২৪ সালের দ্বাদশ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় বড় বিরোধী দলগুলোর অনুপস্থিতিতে। নির্বাচনটি ‘ডামি প্রার্থী’ নির্ভর বলে ব্যাপক সমালোচিত হয়।
নির্বাচন বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে অর্থবহ ও গ্রহণযোগ্য করতে হলে অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছাই সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।

