ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ত্রিশে শাহরিয়ার নাজিম জয়

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১০, ২০২৬, ০৬:০১ পিএম
শাহরিয়ার নাজিম জয়। ছবি- সংগৃহীত

শোবিজের পরিচিত মুখ শাহরিয়ার নাজিম জয়। পাশাপাশি করেন অনুষ্ঠান সঞ্চালনাও। ১৯৯৭ সালে অভিনেতা হিসেবে টেলিভিশন নাটকে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। শুরুতে থিয়েটার, পরে টিভি নাটকে তার সরব উপস্থিতি; কয়েক বছরেই জয় ছোট পর্দায় শক্ত অবস্থানও তৈরি করেছিলেন। এমন হয়েছে এক ঈদে তার কুড়িটির বেশি নাটক প্রচার হয়েছে।

জয় প্রথম অভিনেতা, যিনি ১৯৯৮ সালে লন্ডনে বাংলাদেশের বাইরে চিত্রায়িত হওয়া নাটকে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন। পরে সিনেমা করেন। জয় তার অভিনয় দিয়ে ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও আলোচনা তৈরি করেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি নাটক, সিনেমা সবই পরিচালনা করেছেন। বাজিমাত করেছেন উপস্থাপনাতেও। সবদিকে সমান বিচরণ থাকায় অনেকে জয়কে বাংলাদেশের মিডিয়ার ‘অল রাউন্ডার’-ও বলে থাকেন।

এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘নাটক অভিনয়ের আগে থিয়েটার করেছি। সবমিলিয়ে অভিনেতা হিসেবে আমার ত্রিশ বছরের ক্যারিয়ার। সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে আমার এগিয়ে কখনও থেমে থাকেনি। আমি খুবই সৌভাগ্যবান যে, এখনো আমাকে অন্যতম প্রধান চরিত্রে ডাকা হয়। ওটিটিতে প্রচারিত আমার সবগুলো কনটেন্টে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখেছে দর্শক, পছন্দ করেছেন।

আগামীতে ‘পাপকাহিনি সিজন ২’ করতে যাচ্ছি। বহুমুখী মাধ্যম থেকে ভালোবাসা পেয়েছি দর্শকদের, এ জন্য আমি অভিনেতা পরিচয়ে অনেক বেশি গর্বিত। বেশ কয়েকবছর উপস্থপনাও করেছি, সেই পরিচয়ও আমাকে জনপ্রিয়তা দিয়েছে। তবে উপস্থাপনাটাও আমার একধরনের অভিনয় ছিল।’

ত্রিশ বছরের অভিনয় ক্যারিয়ারে প্রাপ্তি প্রসঙ্গে জয় বলেন, ‘ত্রিশ বছরে আমার অভিনয় দেখে কেউ বিরক্ত হয়নি। কেউ আমাকে বলেনি, আমি স্ক্রিনে এসে তাদের বিরক্ত করেছি। এমনকি কেউ আমার অভিনয় নিয়ে সমালোচনা করেনি। আমি ভালো ভালো কাজ করার চেষ্টা করেছি। দর্শক আমার সেই কাজগুলো দেখে প্রশংসা করেছে। এই ভালোবাসাটাই অভিনেতা হিসেবে সবচেয়ে বড় অর্জন বলে মনে করি।’

এই অভিনেতা বলেন, ‘বহু জনপ্রিয় নির্মাতার কাজ করেছি। সবমিলিয়ে এক হাজারের উপর নাটক করেছি। এসব কাজ আমার ক্যারিয়ারকে সমৃদ্ধ করেছে। গ্রাম গঞ্জের পিরিতি, জীবনের গল্প এই দুটি সিনেমাও আমাকে অনেক বেশি দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। আমার নির্মিত প্রার্থনা সিনেমা দুটি ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে। আরও নির্মিত সিনেমার মধ্যে অর্পিতা, প্রিয়কমলা।’

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে থাকতে পারাটাই আমার চ্যালেঞ্জ। এখন ওটিটির কাজ জনপ্রিয় হচ্ছে। এর ফলে নতুন জেনারেশনের কাছে পৌঁছানো যাচ্ছে। অভিনেতা হিসেবে যে কাজটাই করি খুব সিরিয়াসভাবে প্রস্তুত হয়ে করছি। আমার চাপ হচ্ছে সময়ের সঙ্গে আপডেট থাকা, নইলে ছিটকে যাব।

মানুষের চলার পথে নানা ভুলভ্রান্তি থাকবেই, সেজন্য সচেতনভাবে সবকিছু করছি। দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় শিখেছি, খারাপ সময় যদি কেউ ধৈর্য ও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে ফেইস করতে পারে তবে সেটা বারুদ হয়ে বের হবে। সৃষ্টিকর্তার উপর ভরসা আছে, সবার দোয়া ও সাপোর্টে আমি এখন আত্মবিশ্বাসী কেউ আমাকে এখন আর আটকে রাখতে পারবে না।’