ভারতের সুপরিচিত পরিচালক এসএস রাজামৌলির পরবর্তী সিনেমা ‘বারাণসী’ শুটিং শেষ হওয়ার আগেই দর্শক ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তেলেগু ভাষার সিনেমাটিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করছেন দক্ষিণী সুপরিচিত তারকা মহেশ বাবু, পৃথ্বীরাজ সুকুমারান এবং বলিউড-হলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া।
গত বছরের শেষের দিকে মুক্তিপ্রাপ্ত ৩ মিনিট ৩৭ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের টিজার দর্শকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করেছে। সিনেমার আকর্ষণীয় ভিজ্যুয়াল, সময় ব্যবস্থাপনা এবং গল্প বলার স্টাইল এখন থেকে ২০২৭ সালে মুক্তি পাওয়ার আগেই দর্শকদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
অফিসিয়াল সূত্রে জানা গেছে, শুটিং শুরু হওয়ার আগেই ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্স সিনেমাটির গ্লোবাল ডিজিটাল স্ট্রিমিং রাইটস ক্রয়ের জন্য প্রায় ৬৫০-৭০০ কোটি রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮৮১-৯৪৯ কোটি টাকার বেশি) প্রস্তাব দিয়েছে। সফল হলে এটি ভারতীয় সিনেমার জন্য সর্বোচ্চ ওটিটি চুক্তি হিসেবে ধরা হবে।
বাণিজ্য বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজামৌলির ধারাবাহিক সাফল্য, মহেশ বাবুর বিপুল ফ্যানবেস এবং প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার আন্তর্জাতিক উপস্থিতি মিলিয়ে এই ডিলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে ইন্ডাস্ট্রির অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, বর্তমান ওটিটি বাজারের মন্দা অবস্থায় এই অঙ্ক কিছুটা বেশি মনে হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, বড় বাজেটের প্যান-ইন্ডিয়া সিনেমাগুলোরও সাধারণত ১৫০-২০০ কোটি রুপি ওটিটি ডিলে বিক্রি হচ্ছে। তাই ৬৫০-৭০০ কোটি রুপির ডিল চূড়ান্ত হলে তা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জন্য নতুন রেকর্ড হবে।
‘বারাণসী’ সিনেমার বাজেট ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩০০ কোটি রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ হাজার ৭৬২ কোটি টাকার বেশি)। এতে আন্তর্জাতিক লোকেশনে শুটিং, ভিএফএক্স, উন্নত প্রযুক্তি এবং তারকাদের পারিশ্রমিক অন্তর্ভুক্ত। প্রিন্ট ও প্রচারের খরচ এতে অন্তর্ভুক্ত নয়। কিছু সূত্র মতে, বাজেট আরও বাড়তে পারে। ট্রেড বিশেষজ্ঞরা বলেন, রাজামৌলির ভিশন অনুযায়ী এই বাজেট তুলনামূলক কমই।
সিনেমাটির মুক্তি নির্ধারিত হয়েছে ২০২৭ সালের গ্রীষ্মে। এর আগে রাজামৌলির ‘ট্রিপল আর’ বিশ্বব্যাপী সাফল্য অর্জন করেছে। নির্মাতা আশা করছেন, ‘বারাণসী’ তার সৃজনশীলতা ও বাণিজ্যিক দক্ষতাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন