ঢালিউডের অমর নায়ক সালমান শাহ (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) মৃত্যু রহস্য নিয়ে করা হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও তা দাখিল না করায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা আগামী ১৪ মে পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন।
দীর্ঘ তিন দশক ধরে ঝুলে থাকা এই রহস্যময় মৃত্যু ঘটনাটি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় নতুন মোড় আসার পর এই আদেশ এল।
মামলার প্রেক্ষাপট ও নতুন অগ্রগতি
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহর মৃত্যুর পর শুরুতে একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছিল। তবে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর গত বছরের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত বাদীপক্ষের রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে ঘটনাটিকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এরই প্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর রাজধানীর রমনা থানায় এই হত্যা মামলাটি দায়ের করেন।
অভিযুক্তদের তালিকা
মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হক এবং আলোচিত ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ মোট ১১ জনকে সরাসরি আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন: লতিফা হক লুসি, চিত্রনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ ও ফারুক। মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এ ছাড়াও মামলায় বেশ কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
এজাহারে যা বলা হয়েছে
মামলার বাদী মোহাম্মদ আলমগীর এজাহারে উল্লেখ করেন যে, ১৯৯৬ সালের সেই বিষাদময় দিনে সালমানের মা-বাবা তার নিউ ইস্কাটনের বাসায় গিয়ে জানতে পারেন তিনি ঘুমাচ্ছেন। কিছুক্ষণ পরই খবর আসে সালমানের কিছু একটা হয়েছে। বাসায় ফিরে তারা দেখেন সালমান নিথর অবস্থায় পড়ে আছেন এবং ঘরে বাইরের কিছু মহিলা ও সামীরার আত্মীয় রুবি উপস্থিত ছিলেন।
হাসপাতালে নেওয়ার পথে সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলচে দাগ লক্ষ্য করেন স্বজনরা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সালমান শাহর বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী জীবিত থাকাকালীন ১৯৯৭ সালেই এই মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে সিআইডি তদন্তের আবেদন করেছিলেন। তার মৃত্যুর পর এখন সালমানের মামা এই আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। মামলার অভিযোগে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজশে সালমান শাহকে হত্যা করেছেন।
উল্লেখ্য, আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ ইতোমধ্যে মৃত্যুবরণ করে থাকলে প্রমাণ সাপেক্ষে তারা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন। এখন সবার নজর আগামী ১৪ মে-র দিকে, যেদিন আদালতের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।


