ছোট পর্দার অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চলছে তীব্র সমালোচনা। এই ঘটনায় আলভী ও তার মা নাসরিন সুলতানা আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ইকরার পরিবার। তবে আইনি জটিলতা ও সমালোচনার মুখে থাকা এই অভিনেতা এখনো দেশে ফেরেননি বলে নিশ্চিত করেছেন।
ইকরার মৃত্যুর সময় শুটিংয়ের কাজে নেপালে অবস্থান করছিলেন আলভী। সম্প্রতি মিডিয়াপাড়ায় গুঞ্জন রটেছিল যে, ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে তিনি দেশে ফিরে আত্মগোপনে রয়েছেন। তবে এই তথ্যটি সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন আলভী নিজেই। দৈনিক রূপালী বাংলাদেশকে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি এখনো নেপালেই অবস্থান করছেন এবং তার দেশে ফেরা নিয়ে ছড়িয়ে পড়া সংবাদগুলো সত্য নয়।
সর্বশেষ আলভী ২৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। বিমানটি ৬টা ১ মিনিটে ছেড়ে যায় নেপালের উদ্দেশ্যে। এরপর তিনি আর দেশে ফেরেননি। বর্তমান নেপাল থেকেই অন্য একটি দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে জানা গেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসের বাসা থেকে আফরা ইভনাথ ইকরার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনার পর থেকেই আলভীর পরিবারের ওপর অভিযোগের আঙুল তুলেছে ইকরার পরিবার। এমনকি মামলার কারণে আইনি জটিলতা এড়াতে স্ত্রীর জানাজায় অংশ নিতেও তিনি দেশে ফেরেননি বলে জানা গেছে।
ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথির নাম। অভিযোগ উঠেছে, আলভীর সঙ্গে তিথির প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে এবং ইকরার মৃত্যুর সময় তিথিও আলভীর সঙ্গে নেপালে ছিলেন। ইকরার স্বজনরা এই মৃত্যুর পেছনে তিথির পরোক্ষ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
২০১০ সালের ৯ নভেম্বর ভালোবেসে গোপনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন আলভী ও ইকরা। দীর্ঘ ১৪ বছর গোপন থাকার পর ২০২৪ সালে তাদের বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এই দম্পতির রিযিক নামে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময়ের দাম্পত্য জীবনের এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে স্তব্ধ মিডিয়া অঙ্গন ও ভক্তরা।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন