× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: মার্চ ৪, ২০২৬, ০৬:৩৬ এএম

‘আলভীর সঙ্গে আমার কখনোই প্রেমের সম্পর্ক ছিল না’

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: মার্চ ৪, ২০২৬, ০৬:৩৬ এএম

অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথি। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথি। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

যাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার আত্মহত্যার পর অভিনেতার সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে আলোচনায় অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথি। তাকে ঘিরে নানা প্রশ্ন নাটকপাড়ায়। অভিযোগসহ নানা প্রসঙ্গে দৈনিক রূপালী বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রুহুল আমিন ভূঁইয়া।

রূপালী বাংলাদেশ : দেশে কবে ফিরেছেন?

অভিনেত্রী : আমরা গত ১ মার্চ দেশে ফিরেছি। আলভী বাদে পুরো টিম ফিরেছি। আলভীরও একসঙ্গে ফেরার কথা ছিল তবে নানা কারণে আসতে পারেনি। আলভীর দেশে ফেরাটা জরুরি ছিল। ইমিগ্রেশন পর্যন্ত এসেও শেষ মুহূর্তে থেকে যেতে হয়েছে। ওর নামে মামলা হয়েছে। তার চেয়ে বড় বিষয় বিভিন্ন হুমকি ছিল। সেই জায়গা থেকে না চাইলেও থেকে যেতে হয়েছে, যা ভিডিও বার্তায় আলভী পরিষ্কার করেছে।

রূপালী বাংলাদেশ : সেদিন কী ঘটেছিল?

অভিনেত্রী : স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য হওয়াটাই স্বাভাবিক। ওদের মধ্যে প্রায়ই দাম্পত্য কলহ লেগে থাকত। শুটিংয়ে বেশি সময় থাকার কারণে জেনেছি। সেদিন সকলে আলভী বলল- ইকরা পাগলামি করতেছে, আমাকে দেশে যেতে বলতেছে। সে সময় আমি নিজেও ইকরাকে অনেকবার ফোন করেছি। যখন শুনলাম ইকরা আর নেই (কান্না জড়িত কণ্ঠে) তারপর আর কিছু বলতে পারছি না। কিছুতেই ওর চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছি না। সেদিনের মূহূর্ত বোঝানো যাবে না। কতটা নিরুপায় মুহূর্ত আমরা পার করেছি। এখনো ইকরার মৃত্যু মানতে পারছি না। শোকের জায়গা যতটুকু উপলব্ধি করব তার চেয়ে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে মানসিকভাবে ভালো থাকেত দেয়নি। এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ মেনে না নিতে পেরে সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ রেখেছি।

রূপালী বাংলাদেশ : আপনার বিরুদ্ধে পরকীয়া প্রেমের অভিযোগ। কী বলবেন?
 
অভিনেত্রী : আলভী আমার বন্ধু পরে সহকর্মী। ওর সঙ্গে আমার সর্বোচ্চ কাজ। শুটিং মানে সারাদিন একসঙ্গে থাকা। সেই জায়গা থেকে আমাদের ভালো একটা বন্ধুত্ব অবশ্যই গড়ে উঠেছে। আলভী আমার ভালো একজন বন্ধু এবং একটা নির্ভরতার জায়গা। নির্ভরতার জায়গা অতিক্রম করে কখনো আলভীকে বলিনি আমাকে বিয়ে করো। কেউ এর প্রমাণ দিতে পারবে না। আলভীও এ ধরনের কথা কোনোদিন আমাকে বলেনি। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি যে, ইকরাকেও কোনোদিন বলেনি তোমাকে ডিভোর্স দেব। ইকরার সঙ্গে আমার খুবই ভালো বন্ধুত্ব ছিল। ইকরার মৃত্যুর পর শুনেছি, ২০২২ সাল থেকে আমাদের প্রেম। তবে এর সত্যতা নেই। কিছুদিন আগেও আমি ইকরা একসঙ্গে পার্লারে গিয়েছি। কতটুকু সুসম্পর্ক হলে একসঙ্গে পার্লারে গিয়েছি। ইকরাই আমাকে পার্লারে নিয়ে গিয়েছিল। আলভী বাসায় না থাকলেও ইকরার সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার জন্য বাসায় যেতাম। আমাদের এতটাই সুসম্পর্ক ছিল। আমাদের নিয়ে সন্দেহ করে তা কখনো বলেনি ইকরা। আমি ইকরা একসঙ্গে অনেক মূহূর্ত পার করেছি। তবে ওদের মধ্যে ঝামেলা চলছিল। অনেক বছর আগে থেকেই ইকরা আলভীকে সন্দেহ করত। ২০১৫ সালে আত্মহত্যা করতে চেয়েছিল, তা ইকরা বন্ধুদের বলেছে সেরকম চ্যাট দেখছি এখন। তিন বছর আগে একবার ওরা ঝগড়া করে ইকরা আমার সঙ্গে ফোন দিয়ে খারাপ আচারণ করেছিল। পরবর্তীতে তা ঠিক হয়ে গেছে। আমাকে নিয়ে আলভীর জন্মদিনে সারপ্রাইজ দিয়েছে। আমাদের এমন সম্পর্ক ছিল। এত সন্দেহ থাকলে একসঙ্গে কীভাবে পার্টি করে? ওরা কখনো এ বিষয় নিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলেনি। পুরো সময় স্বাভাবিক সম্পর্ক ছিল। আলভী, পরিবারসহ বিভিন্ন বিষয় শেয়ার করত, আমার জায়গা থেকে সবসময় ইকরাকে সমর্থন করেছি। ইকরার ওর মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো ছিল না।

রূপালী বাংলাদেশ : তাহলে আপনাকে ঘিরেই কেন এই অভিযোগ?

অভিনেত্রী : আমি আসলে জানি না কেন। হয়তো সন্দেহ করে বন্ধুদের ইকরা অনেক কিছুই বলেছে। কখনো এ নিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলেনি। ইকরার মৃত্যুতে আমি যথেষ্ট ভেঙে পড়েছি। কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। পরিষ্কার ভাবে বলছি, আলভীর সঙ্গে আমার কখনোই প্রেমের সম্পর্ক ছিল না।

রূপালী বাংলাদেশ : জন্মদিন করতে নেপালে গিয়েছিলেন?

অভিনেত্রী : ইকরার মৃত্যুর পর রটেছে, আমার জন্মদিন করতেই নাকি নেপালে শুটিংয়ের পরিকল্পনা করেছিল আলভী। এখানে আমার প্রশ্ন আপনাদের ভাষ্য অনুযায়ী ২০২২ সাল থেকে আমাদের প্রেম। তাহলে এত বছরে কেন এমন পরিকল্পনা হয়নি। এবারই কেন? এর উত্তর চাই। হুট করে নেপালে শুটিংয়ের পরিকল্পনা হয়নি। অনেক দিন আগে থেকেই এই শুটিংয়ের পরিকল্পনা। ইকরাও বিষয়টা জানত। নেপালে এবার প্রথমই নয়, এর আগেও দুবার শুটিং হয়েছে। আমরা আউটডোরে অনেক শুটিং করেছি। কখনো তো এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়নি। এবারই কেন? জন্মদিন ঘিরে কোনো আয়োজন হয়নি। বারেটা বাজার পরও শুটিং চলছিল। কেকও কাটা হয়নি। চকোলেট দিয়ে টিমের সদস্যরা শুভেচ্ছা জানিয়েছে। জন্মদিনের জন্য গেলে তো কেক থাকত। একদিন পর টিম একটি কেক কেটেছে। এটা নরমাল বিষয়। শুটিংয়ে দম ফেলার সুযোগ পাইনি। ফেসবুকে একটা পোস্টও করার সুযোগ পাইনি যে, এতটা ব্যস্ত ছিলাম। কিন্তু এখন অনেক পরিচিত মুখ অপরিচিত লাগছে। অন্যকে নিয়ে কথা বলার আগে নিজের দিকে তাকিয়ে কথা বলা উচিত। অনেকেই আমাকে বোন বলে ইকরাকে কানপড়া দিত। অনেক কিছুই বলার আছে। সময় হলে বলব। ইকরার মৃত্যুকে অনেকেই ট্রাম কার্ড বানিয়েছে। ইকরার পক্ষ থেকে অনেকবার ডিভোর্সের কথা শুনেছি। কিন্তু আলভীর থেকে এমন কথা কখনো শুনিনি। মাঝে ইকরা আমেরিকা চলে যেতে চেয়েছিল। এ নিয়ে অনেক বুঝিয়েছি।

রূপালী বাংলাদেশ : একসঙ্গে কতটি নাটক করেছেন?

অভিনেত্রী : এই মুহূর্তে তা বলতে পারব না। তবে আমরা জুটি হয়ে অসংখ্য কাজ করেছি। দর্শক আমাদের জুটি খুব পছন্দ করে। বলা যায়, শতাধিক নাটকে কাজ করেছি। আর বন্ধুত্ব এক যুগের। কাজ করার আগে থেকেই পরিচিত। ২০১২ সাল থেকে আমাদের চেনাজানা। তবে কাজ করতে গিয়ে বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছে। আমরা জাস্ট ফ্রেন্ড।

রূপালী বাংলাদেশ : আপনার নামে মামলা হয়েছে?

অভিনেত্রী : এ নিয়ে আপাতত কথা বলতে চাচ্ছি না। তবে আমার কাছে এ ধরনের তথ্য নেই। চুপ ছিলাম মানে অপরাধী নই। আইনকে সম্মান করি। পুলিশ আমার সহযোগিতা চাইলে কথা বলতে রাজি আছি। তবে আমি কোনো ভুল করিনি। কাউকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেইনি। আমাকে নিয়ে নোংরামি হচ্ছে। সাইবার বুলিং হচ্ছে। অনেক হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমার বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে নানা কথা হচ্ছে। যেগুলোতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। যে কারণে চুপ ছিলাম।

রূপালী বাংলাদেশ : আপনাকে কাজে নেওয়ার জন্য পরিচালকদের বলতেন আলভী। এমন কথাও শোনা যাচ্ছে...

অভিনেত্রী : বিষয়টা এমন না। কেউ নায়িকার কথা জানতে চাইলে চরিত্রের প্রয়োজনে যাকে মানাবে তার নামই প্রস্তাব করত আলভী। এটা সবাই করে। আর আমাদের জুটি ঘিরে সবারই আগ্রহ আছে। যে কারণে একসঙ্গে বেশি কাজ করা হয়েছে।

রূপালী বাংলাদেশ : আলভীর ভাড়াবাসায় উত্তরায় থাকতেন বলে জানা গেছে। আলভীকে ঘিরে ঝামেলার কারণে সেই বাসা ছাড়তে হয়েছিল?

অভিনেত্রী : আলভীর ভাড়াবাসায় আমি থাকিনি। এটা ভুল তথ্য। নিজের উপার্জনের টাকায় থাকছি। মা ও নানু আমার সঙ্গে থাকেন। আলভী কেন আমার বাসা ভাড়া দেবে? আর একটা বাসা নিজ ইচ্ছায় ছেড়েছি কারণ, রাত ১১টার পর গেট ও লিফট বন্ধ হয়ে যেত। তারা বের করে দেয়নি। শুটিং দেরিতে শেষ হলে মাঝে মধ্যে আলভী বাসার গেটে নামিয়ে দিত। বিভিন্ন আয়োজনে দাওয়াত দিলে বন্ধু ও সহকর্মী হিসেবে বাসায় এসেছে। যেভাবে বিষয়টি ছড়িয়েছে তেমন কিছু না।

রূপালী বাংলাদেশ : আলভীর সঙ্গে আর কাজ করবেন?

অভিনেত্রী : তা সময় বলে দেবে। এ নিয়ে আপাতত বলতে পারছি না, চিন্তাও করিনি। আগে মানসিকভাবে সুস্থ হই।

রূপালী বাংলাদেশ : আপনার আগের সংসার ভাঙল কেন?

অভিনেত্রী : এমনও শুনছি, আমার নাকি এর আগে তিনটা বিয়ে হয়েছিল। বনিবনা না হওয়াতে সিনেমাটোগ্রাফার সাহিল রনির সঙ্গে আমার বিচ্ছেদ হয়েছিল। আমার একটাই বিয়ে হয়েছে। ওই বিয়েটা কখনো লুকানো ছিল না। রনির আগের সংসার ভাঙার পর আমাদের বিয়ে হয়েছিল। তার আগে না। ফেসবুকে অনেক মিথ্যাচার হচ্ছে। সাবেক স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক না থাকলেও সবসময় তার সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়।

রূপালী বাংলাদেশ : এই অভিযোগ আপনার ক্যারিয়ারে প্রভাব ফেলবে?

অভিনেত্রী : সেটা সময় বলে দেবে। শুধু বলব, ইকরাকে যথেষ্ট পছন্দ করতাম। আমার বিরুদ্ধে যত কথা ছড়িয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। জন্মদিন নয়, শুটিং করতেই নেপালে গিয়েছিলাম। ক্যারিয়ার নিয়ে এখন ভাবছি না। এত পরিমাণে হ্যারাসমেন্টের শিকার হয়েছি যে, নিজেরই আত্মহত্যা করার ভাবনা মাথায় এসেছিল। এগুলো আর নিতে পারছি না।

রূপালী বাংলাদেশ : কতটি নাটকের শুটিংয়ে গিয়েছিলেন?

অভিনেত্রী : ২৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় আমাদের ফ্লাইট ছিল। ২৬ ফেব্রুয়ারি আমাদের শুটিং শুরু হয়েছিল। মোট পাঁচটি নাটক নিয়ে নেপালে গিয়েছিলাম। তবে একটি নাটকও ভালোভাবে শেষ করতে পারিনি। অন্যগুলোর টুকটাক কাজ হয়েছে। কিছু সিন শেষ হলে একটা নাটকের কাজ পুরোপুরি শেষ হতো।

রূপালী বাংলাদেশ : বিয়ে কবে করবেন?

অভিনেত্রী : সবসময়ই বলি বিয়ে নিয়ে আমার ভাবনা নেই। কাজ নিয়েই থাকতে চাই। বিয়ে একবার করেছি, আপাতত আর চাই না।
 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!