অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুর পর আলভীর দেওয়া সাম্প্রতিক স্ট্যাটাস নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন তাদের প্রতিবেশী ও অভিনেত্রী রিমু রোজা খন্দকার। আলভীর আনা অভিযোগগুলোর পাল্টা জবাব দিয়ে এবং পর্দার পেছনের কিছু অজানা সত্য তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ‘খোলা চিঠি’ লিখেছেন তিনি।
রিমু রোজা খন্দকার তার চিঠিতে উল্লেখ করেন, তিনি এবং আলভী একই এলাকায় (মিরপুর ডিওএইচএস) থাকার সুবাদে তাদের পারিবারিক অনেক কিছুই তার জানা। তিনি বলেন, ‘তুমি অসুস্থ হলে, পা ভাঙা, ডেঙ্গু, এমনকি চুলের থেরাপির সময়ও আমি কয়েকবার দেখতে গেছি। ইকরা কী সেবা তোমার করেছে, তা আমি নিজের চোখে দেখেছি।’
অল্প বয়সে বিয়ে এবং আলভীর মায়ের একার আয়ে সংসার চলার কঠিন দিনগুলোতে ইকরার পাশে থাকার বিষয়টিও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।
আলভী তার স্ট্যাটাসে ইকরার বন্ধুদের সাথে মেলামেশা নিয়ে যে অভিযোগ তুলেছেন, তার বিপরীতে রিমু রোজা আলভী ও অভিনেত্রী তিথির ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি লেখেন, ‘তিথির সাথে তোমাকে অনেক জায়গায় দেখেছি, পুবাইল, ৩০০ ফিট, মাওয়া, তিথির বাসা, এমনকি তোমার অফিসেও।’
রিমু আরও একটি চাঞ্চল্যকর দাবি করেন যে, গত বছর আলভীর জন্মদিনে ইকরা তাকে বলেছিলেন, ‘তিথিকে দাওয়াত না দিলে আমার সংসার ভেঙে যাবে।’ রিমুর মতে, আলভী সময় না দেওয়ার কারণেই ইকরার বন্ধু থাকাটা স্বাভাবিক ছিল, কিন্তু সেটাকে কেন্দ্র করে মৃত স্ত্রীর ওপর সব দোষ চাপানো অন্যায়।
স্ট্যাটাসে অভিনেত্রী তিথির ব্যক্তিগত জীবন এবং তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গুরুতর কিছু অভিযোগ আনেন রিমু। তিথির বাবার বিরুদ্ধে অপেশাদার আচরণের অভিযোগ তোলার পাশাপাশি তিনি বর্তমানে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘এমন চরিত্রের মানুষদের কারণে যেন আর কারো সংসার না ভাঙে।’
আলভী এবং তিথির বর্তমান পরিচিতি বা ভিউ বেড়ে যাওয়া প্রসঙ্গে রিমু বলেন, ‘তুমি এখন ভাইরাল হয়েছো, ফলোয়ার বাড়ছে। কিন্তু ভাইরাল হওয়া মানেই সব মিথ্যা সত্য হয়ে যায় না।’ তিনি আলভীকে নিজের ভুল স্বীকার করে সন্তান রিজিকের কথা চিন্তা করার আহ্বান জানান।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে রিমু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইকরা খুবই বোকা ছিল, নাহলে এমন জীবন শেষ করে দেওয়ার পথ বেছে নিত না। তিনি আলভীকে ‘স্বার্থপর’ আখ্যা দিয়ে বলেন, মৃত্যুর সময়ও ইকরার পরিচয় ছিল ‘আলভীর বউ’, অথচ আলভী তার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করেননি।
রিমু রোজা খন্দকারের এই সরাসরি আক্রমণাত্মক ও তথ্যবহুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খোলা চিঠি মামলা এবং সামাজিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে প্রতিবেশীর জবানবন্দিতে আলভীর ব্যক্তিগত জীবনের যে দিকগুলো উঠে এসেছে, তা জনমনে অনেক প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন