দর্শকপ্রিয় ও গুণী অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী-মোশাররফ করিমকে এবারের ঈদে বড় পর্দায় দেখা যাবে তানিম নূর পরিচালিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমায়। প্রায় ১৩ বছর পর দুজনকে একসঙ্গে রূপালী পর্দায় অভিনয় করতে দেখা যাবে।
তাদের সর্বশেষ একসঙ্গে চলচ্চিত্রে দেখা গিয়েছিল ২৫ জানুয়ারি, ২০১৩ সালে মুক্তি পাওয়া মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত ‘টেলিভিশন’ সিনেমায়। কাকতালীয়ভাবে এবারের ঈদে ছোট পর্দাতেও শুধুমাত্র একটি করে ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করেছেন দুজন। মাছরাঙা টেলিভিশনেই দুজনের সাত পর্বের দুটি ভিন্ন ধারাবাহিক নাটক প্রচারিত হবে।
চঞ্চল চৌধুরী অভিনীত ধারাবাহিক নাটকের নাম ‘মেইন কাস্টিং’। বৃন্দাবন দাশের লেখা, নিয়াজ মাহবুবের পরিচালনায় এই ধারাবাহিকে চঞ্চল চৌধুরী ছাড়াও অভিনয় করেছেন মৌসুমী হামিদ, ডা. এজাজুল ইসলাম সহ আরো অনেকে।
ঈদের দিন থেকে ৭ম দিন পর্যন্ত প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে প্রচারিত হবে ‘মেইন কাস্টিং’।
নাটকের গল্প: অখ্যাত একজন টেলিভিশন নাট্য নির্মাতা তার নতুন প্রজেক্টের জন্য একঝাঁক অভিনেতা-অভিনেত্রী চেয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেন। বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করা ঠিকানায় প্রতিদিনই দুই চার দশজন করে আগ্রহী অভিনেতা-অভিনেত্রী এসে হাজির হয়। নির্মাতা প্রত্যেককে একই কথা বলে আকৃষ্ট করে, সে-ই তার নাটক অথবা সিনেমার প্রধান চরিত্র মেইন কাস্টিং। প্রত্যেককেই নানাভাবে গল্প ফেঁদে শোনায়।
নতুনদের সুযোগ দেওয়া হবে এ কথার উপর জোর দেয় নির্মাতা। মফস্বল থেকেও অনেক তরুণ-তরুণী এসে হাজির হয়। নির্মাতা কৌশলে জানায়, নাটক সিনেমা করতে অনেক খরচ, মেইন কাস্টিং করতে হলে অনেক ত্যাগের দরকার হয়। অনেকেই টাকা দিয়েও সুযোগ চায়। নির্মাতা বেশ কয়েকজনকে শুটিংয়ে আমন্ত্রণ জানায়। মেইন কাস্টিংয়ে অভিনয় করতে চাওয়া লোকজনকে দেখা যায় বাড়ির দারোয়ান অথবা কাজের বুয়ার চরিত্রে দাঁড় করানো হয়েছে। এ নিয়ে শুরু হয় জটিলতা। নানা রকম ঘটনার মধ্য দিয়ে গল্প এগিয়ে যায়।
মোশাররফ করিম অভিনীত সাত পর্বের ধারাবাহিক নাটকের নাম ‘ভ্যাজাল জামাই’। আল আমিন স্বপনের লেখা, তাইফুর জাহান আশিকের পরিচালনায় এই ধারাবাহিকে মোশাররফ করিম ছাড়াও অভিনয় করেছেন রোবেনা রেজা জুঁই, মাসুম বাশার প্রমুখ। ঈদের দিন থেকে ৭ম দিন পর্যন্ত রাত ৯টা ১০ মিনিটে প্রচারিত হবে এই ধারাবাহিকটি।
নাটকের গল্পে মানিক মিয়ার তিন বউ। প্রথম বউয়ের বাচ্চা হয় না বলে দ্বিতীয় বিয়ে করেছিল। দ্বিতীয় বউয়ের বাচ্চা হয় না বলে তৃতীয় বিয়ে করেছে। কিন্তু ফলাফল একই। কোনো বউয়েরই বাচ্চা হয় না। তার উপর তিন বউয়ের মধ্যে সবসময় কিছু না কিছু নিয়ে ঝগড়া বিবাদ চলতে থাকে। এসব দেখে মানিক মিয়ার মেজাজ ঠিক থাকে না। মাঝে মধ্যে বউদের মারতেও যায়। মজার বিষয় হলো, বউরা একজন আরেকজনকে সহ্য করতে পারে না কিন্তু মানিক মিয়া যখন কাউকে মারতে যায় তখন তারা তিনজন একাট্টা হয়ে স্বামীকে মারতে আসে। মানিক মিয়া তখন অসহায় হয়ে পড়ে। বড় বউ শিউলির বাবা একজন বিখ্যাত ডাকাত। মজিদ ডাকাত নামে তাকে সবাই চিনে। এতদিন সে জেলে ছিল। জেল থেকে ছাড়া সোজা মানিক মিয়ার বাড়িতে চলে এসেছে। মেয়ের ঘরে সতীন নিয়ে আসার জন্য মানিক মিয়াকে গুলি করে মারতে চায় সে। একই সাথে জড়ো হয়েছে মেজ বউয়ের ভাই এবং ছোট বউয়ের চাচা। তিনজন তিন দিক থেকে শাসাচ্ছে মানিক মিয়াকে। মজিদ ডাকাত গুলি ঠেকিয়ে মানিক মিয়ার কাছ থেকে অন্য বউদেরকে তালাক দেয়ার স্বীকারোক্তি আদায় করে নেয়। এবার তারা কি করবে? মানিক মিয়ার পরিণতি শেষ পর্যন্ত কি হবে?
-20260317162243.webp)

