কথায় কথায় আমরা অনেকে বলে থাকি, ‘কুকুরের লেজ, কোনো দিনও সোজা হয় না।’ আপনি হয়তো নিজেও দেখেছেন—কুকুরের লেজ হয় অর্ধগোলাকৃতির মতো, গোল। বিশেষ করে লেজের শেষ অংশটুকু! কিন্তু কেন এমনটা হয়? এর পেছনেও কি রয়েছে কোনো বৈজ্ঞানিক কারণ?
সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ১৮তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ বিষয়ে উঠে এসেছে গবেষকদের কথা। তাদের একাংশ মনে করছেন, কুকুরের লেজ এ রকম বাঁকা হওয়ার পেছনে রয়েছে কয়েক হাজার বছরের বিবর্তনের ইতিহাস।
বিবর্তনবাদের গবেষকেরা জানাচ্ছেন, প্রাগৈতিহাসিক যুগে কুকুরের পূর্বপুরুষদের একাধিক প্রজাতিই তুষার মেরু-প্রদেশ অঞ্চলে বসবাস করত। সে কারণে ঠান্ডা কম লাগানোর জন্য প্রায় তারা লেজ গুটিয়ে রাখত, যাতে শরীরের সারফেস এরিয়া কম থাকে। অনেক ক্ষেত্রে বিশ্রাম নেওয়ার সময় ওরা নাকের ওপর লেজ রেখে দিত, যাতে শরীর উষ্ণ থাকতে পারে। লেজ ঘুরিয়ে ঘুমানোর এই অভ্যাস ধীরে ধীরে স্থায়ী রূপ নেয়।
এ ছাড়া কুকুরদের লেজ সব সময় মাটি থেকে ওপরে রাখার একটা প্রচেষ্টা থাকে। দৌড়ানোর সময় বাঘ, সিংহের মতো হালের কাজও করে কুকুরের লেজ। অর্থাৎ কুকুর যখন দৌড়ায়, তখন তার শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করে তার লেজ। হাওয়ার বেগ কাজে লাগাতে নিজেদের লেজ প্রয়োজনমতো ব্যবহারও করে কুকুররা।
তবে বেশির ভাগ কুকুরের লেজ বাঁকা হলেও পৃথিবীতে এমনও অনেক কুকুর রয়েছে, যাদের লেজ গোল নয়। এমনকি লেজ নেই এমন কুকুরও রয়েছে। কিন্তু যে সমস্ত কুকুরের লেজ থাকে, তাদের গোল হয় কেন?
এখন প্রশ্ন কুকুরদের লেজ সোজা করা যায় কি না। উত্তর হলো, যে সমস্ত কুকুরের প্রজাতির লেজ বাঁকা, তাদের লেজ স্বাভাবিকভাবে সোজা করা যায় না। এখন অস্ত্রোপচার করে কৃত্রিমভাবে কেউ যদি তা করতে চায়, তাহলে অবশ্যই করা যায়। তবে এমন কাজ নিঃসন্দেহে অমানবিক ও বেআইনি।
বহু প্রজাতির কুকুর আছে, যাদের লেজ কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই সোজা। এটা কোনো অসুখের লক্ষণ নয়।
এমনকি পৃথিবীতে অনেক প্রজাতির কুকুর আছে, যাদের লেজ নেই। এর মধ্যে ফ্রেঞ্চ বুলডগ, বোস্টন টেরিয়ার, ওয়েলশ কর্গির মতো প্রজাতি উল্লেখযোগ্য।
এমন অনেক কুকুরও দেখা যায়, যেগুলোর লেজ দেখা যায় না। কারণ তাদের মালিকরা লেজ কেটে দেয়। পোষা কুকুরের লেজ কাটা পশ্চিম দেশগুলোতে একটি সাধারণ ব্যাপার। আপনার পোষ্য কুকুরের লেজ স্বাভাবিকভাবে বাঁকা হলে তাতে অবশ্যই কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু এটি অস্বাভাবিকভাবে বাঁকা হলে বা হতে শুরু করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।
একটি কুকুরের লেজ তার মেরুদণ্ডের একটি সম্প্রসারণ। আঁকাবাঁকা হওয়ার মানে এই নয় যে, কুকুরদের মেরুদণ্ডও আঁকাবাঁকা। মেরুদণ্ডী প্রাণী হওয়ায় তাদের লেজ তাদের মেরুদণ্ডের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। বিবর্তন তত্ত্ব অনুযায়ী কুকুরের লেজের হাড় তার মেরুদণ্ডে পেরেকের মতো আটকে থাকে বলে মনে করা হয়। এ কারণে কুকুরকে হেমি-মেরুদণ্ডী প্রাণী বলা হয়।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন