× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

ফিচার ডেস্ক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৮, ২০২৬, ১২:৫২ পিএম

ক্যাপ্টেনের টয়লেট ব্যবহারে ডুবে গেল সাবমেরিন

ফিচার ডেস্ক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৮, ২০২৬, ১২:৫২ পিএম

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জার্মান ইউ-বোটের টর্পেডো কক্ষের অভ্যন্তর ভাগ । ছবি : সংগৃহীত

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জার্মান ইউ-বোটের টর্পেডো কক্ষের অভ্যন্তর ভাগ । ছবি : সংগৃহীত

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে এক অবিশ্বাস্য ও মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী হয় বিশ্ব। একটি টয়লেট ব্যবহারের ভুলে ধ্বংস হয়ে যায় নাৎসি জার্মানির একটি ইউ-বোট (সাবমেরিন)। প্রাণ হারান চার নাবিক। এ ছাড়াও সঙ্গে থাকা বাকিরা হন বন্দি।

সময়টা ১৯৪৫ সালের ১৪ এপ্রিল মাস, স্কটল্যান্ডের পিটারহেড উপকূলের কাছে টহল দিচ্ছিল নাৎসি সাবমেরিন ইউ-১২০৬। সাবমেরিনটির কমান্ডে ছিলেন ২৭ বছর বয়সি ক্যাপ্টেন কার্ল-অ্যাডলফ শ্লিট। এটি ছিল তার জীবনের প্রথম যুদ্ধ টহল- আর সেটিই শেষ হয়ে যায় এক অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনায়।

সাধারণভাবে সাবমেরিনের বড় সুবিধা হলো দীর্ঘ সময় পানির নিচে থেকে শত্রুর নজর এড়ানো। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সাবমেরিনের টয়লেট ব্যবস্থাই ছিল অন্যতম জটিল বিষয়।

মিত্রবাহিনীর সাবমেরিনগুলোতে বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য সেপটিক ট্যাঙ্ক ব্যবহার করা হতো, যা পরে পানির উপরে উঠে নিষ্কাশন করা হতো। কিন্তু জার্মান ইউ-বোটগুলোতে বর্জ্য সরাসরি সমুদ্রে ফেলার ব্যবস্থা ছিল- যা স্থান সাশ্রয়ী হলেও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

গভীর সমুদ্রে বাইরের পানির চাপ এতটাই বেশি ছিল যে- ভুলভাবে টয়লেট ব্যবহার করলে সমুদ্রের পানি উল্টো সাবমেরিনে ঢুকে পড়তে পারত। এই কারণে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ক্রু ছাড়া টয়লেট ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা ছিল।

ঘটনাটি যেদিন ঘটে- ঘটনাস্থলে ক্যাপ্টেন শ্লিট প্রশিক্ষিত টয়লেট অপারেটরের সাহায্য না নিয়ে নিজেই টয়লেট ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন। ফ্লাশ করার সময় তিনি ভুল করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে একজন ইঞ্জিনিয়ারকে ডাকা হলে আরও বড় বিপত্তি ঘটে- ভুল ‘ভালভ’ খোলার ফলে পয়ঃবর্জ্য ও প্রচুর সমুদ্রের পানি সাবমেরিনে ঢুকে পড়ে।

পানি ঢুকে পড়ে সাবমেরিনের ব্যাটারি কক্ষে। সেখানে সমুদ্রের পানির সঙ্গে ব্যাটারির রাসায়নিক বিক্রিয়ায় তৈরি হয় প্রাণঘাতী ক্লোরিন গ্যাস। মুহূর্তেই সাবমেরিনটি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ে।

জীবন বাঁচাতে ক্যাপ্টেন শ্লিট সাবমেরিনটিকে পানির উপরে উঠতে নির্দেশ দেন। তবে উপরিভাগে উঠতেই মিত্রবাহিনীর বিমান সাবমেরিনটি শনাক্ত করে গুলি চালায়।

গ্যাসে আক্রান্ত ও গোলাবর্ষণের মুখে পড়ে ক্রুরা সাবমেরিন ত্যাগ করতে বাধ্য হন। এই ঘটনায় এক নাবিক বিমান হামলায় নিহত হন এবং আরও তিনজন তীরে পৌঁছানোর আগেই ডুবে মারা যান।

বাকি ৪৬ জন নাবিককে মিত্রবাহিনীর উদ্ধারকারী দল আটক করে।

ক্যাপ্টেন কার্ল-অ্যাডলফ শ্লিট এই দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যান এবং পরবর্তীতে ৯০ বছর পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। তবে ইতিহাসে এই ঘটনা স্থান করে নিয়েছে এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে- যেখানে যুদ্ধাস্ত্র নয়, বরং একটি টয়লেটের ভুল ব্যবহারে ধ্বংস হয়ে যায় একটি যুদ্ধজাহাজ।

Link copied!