ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

এআই ব্যবহারে কর্মীদের বাড়ছে চরম মানসিক ক্লান্তি

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: মার্চ ১৩, ২০২৬, ০২:১১ পিএম
এআই। ছবি : সংগৃহীত

কাজের গতি বাড়াতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই উল্টো বাড়ছে মানসিক চাপ। অতিরিক্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) টুল ব্যবহারের ফলে কর্মীরা চরম মানসিক ক্লান্তি বা অবসাদে ভুগছেন। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, নিয়মিত এআই টুল ব্যবহারের কারণে অনেক কর্মী ‘ব্রেইন ফ্রাই’ নামে পরিচিত এক ধরনের তীব্র মানসিক ক্লান্তির মুখে পড়ছেন।

‘হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউ’র গবেষকরা বিভিন্ন খাতের প্রায় দেড় হাজার মার্কিন কর্মীর ওপর একটি জরিপ পরিচালনা করেন। ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উৎপাদনশীলতা ও কর্মদক্ষতা বাড়াতে যারা নিয়মিত এআই ব্যবহার করছেন, তাদের ক্ষেত্রে একটি নেতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

গবেষণায় দেখা যায়, বিভিন্ন এআই টুলকে দীর্ঘ সময় ধরে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ বা তদারকি করতে গিয়ে কর্মীদের মধ্যে মানসিক অবসাদ তৈরি হচ্ছে। এতে তাদের কাজে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

অংশগ্রহণকারীদের অভিজ্ঞতা ব্যাখ্যা করতে গবেষকরা ‘ব্রেইন ফ্রাই’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। এর অর্থ হলো নিজের মানসিক সক্ষমতার অতিরিক্ত এআই টুল ব্যবহার বা তদারকির ফলে তৈরি হওয়া তীব্র মানসিক ক্লান্তি।

জরিপে অংশ নেওয়া অনেক কর্মী তাদের সমস্যার লক্ষণ হিসেবে মাথাব্যথা, সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হওয়া এবং মাথার ভেতরে এক ধরনের ‘কুয়াশাচ্ছন্ন’ অনুভূতির কথা জানিয়েছেন।

কেউ কেউ একে দীর্ঘ সময় এআই টুলের সঙ্গে কাজ করার ফলে তৈরি হওয়া এক ধরনের ‘মানসিক হ্যাংওভার’ হিসেবেও বর্ণনা করেছেন।

গবেষণায় অংশ নেওয়া এক সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজার বলেন, দ্রুত কাজ করার বদলে তার মস্তিষ্ক তখন জট পাকানো ও অগোছালো মনে হচ্ছিল। তার ভাষায়, মনে হচ্ছিল মাথার ভেতরে ডজনখানেক ব্রাউজার ট্যাব একসঙ্গে খোলা, আর সবই মনোযোগ পাওয়ার জন্য লড়াই করছে।

তিনি আরও বলেন, আমার চিন্তা করার সক্ষমতা পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি, কিন্তু সবকিছু এলোমেলো লাগছিল ঠিক যেন রেডিওর স্ট্যাটিক শব্দের মতো। পরে বুঝতে পারলাম, মূল সমস্যার সমাধানের চেয়ে এসব টুল সামলাতেই আমাকে বেশি সময় দিতে হচ্ছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, মার্কেটিং বিভাগে কর্মরত ব্যক্তিদের মধ্যে ‘ব্রেইন ফ্রাই’ বা মানসিক ক্লান্তির হার সবচেয়ে বেশি। এ খাতের এক-চতুর্থাংশের বেশি কর্মী এই সমস্যার কথা জানিয়েছেন।

এ ছাড়া মানবসম্পদ (এইচআর), ফাইন্যান্স এবং সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট খাতের কর্মীদের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য হারে এ সমস্যা দেখা গেছে।

গবেষকদের মতে, এআই ব্যবহারের ফলে তৈরি হওয়া ব্রেইন ফ্রাইয়ের সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে ছোট-বড় বিভিন্ন ভুলের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।

যেসব কর্মী এ সমস্যায় ভুগছেন, তাদের ক্ষেত্রে ছোটখাটো ভুলের হার প্রায় ১১ শতাংশ এবং বড় ধরনের ভুলের হার প্রায় ৩৯ শতাংশ বেশি।

গবেষণার তথ্য বলছে, সাধারণ ‘বার্নআউট’ যেখানে মূলত আবেগজনিত ক্লান্তি, সেখানে ‘এআই ব্রেইন ফ্রাই’ হলো তীব্র মানসিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক চাপের ফল।