জ্যাক-রোজের অমর প্রেমকাহিনীর সিনেমা টাইটানিক-এ সেলিন ডিয়ন-এর কণ্ঠের পেছনে যে পিয়ানোর মায়াবী সুর হৃদয় ছুঁয়েছিল, কিংবা বলিউডে রাজেশ খান্নার গান-সবখানেই পিয়ানোর সুর যেন আবেগের গভীর প্রকাশ। সেই মায়াবী বাদ্যযন্ত্রকে ঘিরেই আজ (২৯ মার্চ) পালিত হচ্ছে বিশ্ব পিয়ানো দিবস।
কবে শুরু হলো এই দিবস?
বিশ্ব পিয়ানো দিবসের সূচনা করেন জার্মান পিয়ানোবাদক নিলস ফ্রাম। ২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো দিনটি উদযাপন করা হয়। এরপর থেকে এটি সারা বিশ্বের পিয়ানোবাদক, সুরকার ও সংগীতপ্রেমীদের এক বৈশ্বিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। পিয়ানো শুধু একটি বাদ্যযন্ত্র নয়-এটি আবেগ ও অনুভূতি প্রকাশের শক্তিশালী মাধ্যম।
কেন ২৯ মার্চই পিয়ানো দিবস?
দিবসটি পালিত হয় বছরের ৮৮তম দিনে। একটি স্ট্যান্ডার্ড পিয়ানোতে থাকে ঠিক ৮৮টি কি। এই প্রতীকী মিল থেকেই দিনটি নির্ধারণ করা হয়েছে।
সিনেমা ও সংগীতে পিয়ানোর জাদু
পিয়ানোর সুর মানেই রাজকীয় আভিজাত্য ও গভীর অনুভূতি। বলিউডে শাহরুখ খান যখন একটি সিনেমায় পিয়ানোর সামনে বসেন, তখন দৃশ্যটি পায় আলাদা আবেগঘন মাত্রা। আবার বাংলা চলচ্চিত্রে রাজ্জাক-এর উপস্থিতিতে জনপ্রিয় গানগুলোতে পিয়ানো হয়ে ওঠে অনুভূতির সঙ্গী।
ক্ল্যাসিকাল থেকে আধুনিক-সব ধারার সংগীতেই পিয়ানো নিজের জায়গা তৈরি করে নিয়েছে।
পিয়ানোর ইতিহাস
পিয়ানোর ইতিহাস কয়েক শতাব্দী পুরোনো। ১৭০০ সালের দিকে ইতালিতে বার্তেলোমিউ ক্রিস্টোফারি হার্পসিকর্ডের উন্নত সংস্করণ তৈরি করেন, যা ধীরে ধীরে আধুনিক পিয়ানোর রূপ নেয়। ১৮শ শতকের শেষ দিকে বর্তমান পিয়ানোর কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হয়।
পিয়ানোর খুঁটিনাটি
পিয়ানো সাধারণত কি-বোর্ডের সংখ্যার ভিত্তিতে ৬৬, ৭২ ও ৮৮-এই তিন ধরনের হয়ে থাকে। এর মধ্যে ৮৮ কি-যুক্ত পিয়ানো ক্ল্যাসিকাল সংগীতের জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।
মানসিক প্রশান্তিতে পিয়ানোর ভূমিকা
গবেষণায় দেখা গেছে, পিয়ানোর মৃদু সুর মানসিক চাপ কমাতে ও মনোযোগ বাড়াতে সহায়ক। ভলফগ্যাং আমাদেউস মোজার্ট এবং লুডভিগ ভ্যান বিথোভেন-এর সুর থেকে শুরু করে আধুনিক সংগীত-সবখানেই পিয়ানো এক অনন্য আবহ তৈরি করে।
ব্যস্ত জীবনের মাঝেও একটুখানি প্রশান্তি পেতে পিয়ানোর সুর হতে পারে সেরা সঙ্গী। বিশ্ব পিয়ানো দিবসে প্রিয় কোনো পিয়ানো সুরে ডুবে যাওয়াই হতে পারে দিনের সবচেয়ে সুন্দর উদযাপন।

