পৃথিবীর সকলেরই কাজের স্বীকৃতি পাওয়া উচিত, এমনকি গাধারও। মূলত সে উদ্দেশ্যেই ২০১৮ সাল থেকে ৮ মে দিনটি উদযাপন করা হয়—গাধার অবদান স্মরণ এবং এই পরিশ্রমী প্রাণীটির গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে।
বিশ্ব গাধা দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো এই প্রাণীটির প্রতি যত্নশীল মনোভাব গড়ে তোলা এবং তার সুরক্ষা নিশ্চিত করা। দিনটিকে ঘিরে বিভিন্ন সংস্থা ও এনজিও গাধার খাদ্য ও পরিচর্যার দায়িত্ব নেয়।
পণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে কৃষিকাজ, এমনকি যুদ্ধের ময়দানেও গাধার অবদান অনস্বীকার্য। গাধা দীর্ঘকাল ধরে মানুষের সঙ্গী হিসেবে কাজ করে এসেছে। নির্মাণকাজে ভার বহনে, কৃষিকাজে জমি চাষে কিংবা চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের আনন্দ দিতে—সব ক্ষেত্রেই এ প্রাণীর উপস্থিতি লক্ষ করা যায়।
এ দিবসটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, গাধা কোনো ‘বোকা’ প্রাণী নয়, বরং এটি নিঃস্বার্থভাবে সব সহ্য করে নিরলস পরিশ্রম করে যায়। তাই গাধার প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটানো প্রয়োজন।
গাধা শব্দটি নেতিবাচক অর্থে ব্যবহার করা হলেও গবেষণার তথ্য বলছে, গাধা কিন্তু মোটেও বোকা প্রাণী নয়! আর পাঁচটা প্রাণীর চেয়ে অনেক বেশি বুদ্ধিমান, কর্মঠ এবং উপকারী। এরা প্রখর কৌতূহলী। গাধা অত্যন্ত ধৈর্যশীল ও পরিশ্রমী প্রাণীও বটে।
এ ছাড়া গাধার রয়েছে অবিশ্বাস্য স্মৃতিশক্তি। ২৫ বছর আগে দেখা এলাকা, এমনকি বহু বছর আগে দেখা গাধাদের সহজেই চিনতে পারে এ প্রাণী। একই সঙ্গে গাধা প্রচণ্ড জেদিও হয়ে থাকে, আত্মরক্ষা করার প্রবল ক্ষমতা রয়েছে তাদের। কোনো ঘটনায় গাধা সহজে চমকে ওঠে না। তাদেরকে ভয় দেখিয়ে বা জোর করে কোনো কাজ করিয়ে নেওয়া খুব কঠিন ব্যাপার। এদের চিন্তাধারা ঘোড়ার থেকে স্বাধীন।
খামারে পালন করা পশুরা অন্য হিংস্র পশু দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু গাধা নেকড়ে বাঘ বা অন্য শিকারির হাত থেকে সবাইকে রক্ষা করতে পারে সংকেত জানিয়ে—যে কারণে একজন দক্ষ পশুপালক পশুদের নেতা হিসেবে শক্তিশালী গাধাকেই বেছে নেবেন।


