ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

গ্রামে নাকি শহরে, কোথায় বেশি আনন্দ কোরবানির ঈদে?

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: মে ২৮, ২০২৬, ০৬:৪৫ এএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

গ্রামে ঈদুল আজহা শুধু একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি এক আবেগঘন মিলনমেলা। ধর্মীয় দায়িত্ব, সামাজিক সংহতি ও পারস্পরিক ভালোবাসার সমন্বয়ে গ্রামীণ জনপদে তৈরি হয় উৎসবের ভিন্ন এক আবহ।

ঈদের কয়েক দিন আগে থেকেই জমে ওঠে গরু-ছাগলের হাট। শহরের তুলনায় গ্রামের পশুর হাটগুলো বেশি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে, কেউ আবার বন্ধুদের সঙ্গে হাটে যান আনন্দময় অভিজ্ঞতা নিতে। পশু কেনা, দামাদামি, ওজন মাপা—সব মিলিয়ে চলে উৎসবের আমেজ। বাড়িতে পশু আনার পর এলাকার শিশুরা দল বেঁধে সেটি দেখতে আসে, খাওয়ায় এবং আদর করে নামও রাখে।

ঈদের দিন সকালে গ্রামের ঈদগাহ মাঠে জড়ো হন সব বয়সী মানুষ। পরিচিত-অপরিচিত সবাই নামাজ শেষে কোলাকুলি করেন, ভুলে যান পুরোনো বিরোধ। নতুন পোশাক, আতরের সুবাস আর হাস্যোজ্জ্বল মুখে ঈদগাহ পরিণত হয় সম্প্রীতির এক বিশাল মিলনমেলায়।

নামাজ শেষে শুরু হয় কুরবানির আনুষ্ঠানিকতা। শিশুদের মাঝেও থাকে ব্যাপক আগ্রহ। কুরবানির মাধ্যমে মানুষ শুধু ধর্মীয় দায়িত্ব পালনই করেন না, বরং সমাজের দরিদ্র মানুষের প্রতিও দায়িত্ববোধের পরিচয় দেন। অনেক গ্রামে দেখা যায়, কেউ নিজে কুরবানি দিতে না পারলেও প্রতিবেশীদের সহায়তায় তার ঘরেও পৌঁছে যায় কুরবানির মাংস।

পশু জবাই শেষে গ্রামের ছোট-বড় সবাই মিলে মাংস কাটা, ভাগ করা ও প্যাকেট করার কাজে অংশ নেন। পরে তা দরিদ্র পরিবারসহ আত্মীয়স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। অনেক সময় গ্রামের বাইরের মানুষও এই ভাগ থেকে বঞ্চিত হন না। এটি গ্রামীণ সমাজে মানবিকতা ও সহমর্মিতার উজ্জ্বল উদাহরণ।

ঈদের বিকেল মানেই গ্রামে দাওয়াতের ধুম। এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়িতে অতিথি আপ্যায়ন, শিশুদের হৈচৈ, মাঠে খেলাধুলা—সব মিলিয়ে আনন্দের রঙ আরও গাঢ় হয়ে ওঠে। সন্ধ্যায় চায়ের দোকান কিংবা বাড়ির বারান্দায় বসে চলে দীর্ঘ আড্ডা, গল্প আর হাসি।

গ্রামের কুরবানির ঈদ তাই শুধু ধর্মীয় ত্যাগের প্রতীক নয়; এটি সামাজিক ঐক্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও আনন্দ ভাগাভাগির এক অনন্য উৎসব। এখানে ঈদের আনন্দ একার নয়, সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার মাঝেই লুকিয়ে থাকে উৎসবের প্রকৃত সৌন্দর্য।