শকুন আকাশে চক্কর দিচ্ছে দেখলে অনেকেই ভাবেন- কাছেই নিশ্চয় মৃত লাশের গন্ধ। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধারণা ভুল। শকুনের চক্কর দেওয়া মৃত লাশের জন্য নয়, বরং প্রকৃতির স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ, যা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শকুনরা মূলত আকাশে ভেসে থাকতে ‘থার্মাল’ বা উষ্ণ বায়ুর স্তম্ভ ব্যবহার করে। সূর্যের অসম তাপে নিচের গরম হালকা বাতাস উপরে উঠে যায়, আর সেই উর্ধ্বমুখী বাতাস শকুনদের বিনামূল্যের লিফট দেয়।
২০১৭ সালের গবেষণা দেখা যায়, যে থার্মাল স্তম্ভগুলো নিচে সরু হলেও উপরে প্রসারিত হয়, ফলে শকুনদের নিচে ছোট এবং উপরে বড় বৃত্তে ঘুরতে দেখা যায়। শক্তি সাশ্রয়ের এটাই তাদের প্রধান কৌশল।

চক্কর দেওয়া মানেই শকুন মৃত্যুর অপেক্ষায় আছে- এ ধারণাও ভুল। তারা আকাশে উঁচুতে ভেসে থাকে শক্তি বাঁচানোর জন্য এবং মৃত প্রাণী খুঁজতে। কিছু প্রজাতি, যেমন- টার্কি শকুন, ইথাইল মারক্যাপ্টান নামক রাসায়নিকের গন্ধ পেয়ে ঘন জঙ্গলে দৃশ্যমান ইঙ্গিত ছাড়াই মৃতদেহ খুঁজে বের করতে পারে। সম্ভাব্য খাদ্য দেখলে তারা উপরে থেকে পর্যবেক্ষণ করে- প্রাণীটি সত্যি মৃত কি না, কোনো বড় শিকারী আগে এসে খুলে দিয়েছে কি না এবং নামা নিরাপদ কি না।
মানুষের বড় ভুল ধারণা হলো শকুন রোগ ছড়ায়। বাস্তবে ঘটে এর বিপরীত। তাদের পাকস্থলীর শক্তিশালী অ্যাসিড অ্যানথ্রাক্স, জলাতঙ্ক, সালমোনেলা এবং কলেরার মতো বিপজ্জনক জীবাণুকেও নষ্ট করতে পারে। তাই তারা প্রকৃতির ‘পরিষ্কারক দল’, যারা মৃতদেহ খেয়ে রোগ ছড়ানো প্রতিরোধ করে। এ কারণে বাস্তুতন্ত্রে তাদের গুরুত্ব অপরিসীম।

বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশেও শকুনের সংখ্যা হঠাৎ কমে যাওয়ার ঘটনা বোঝা যায়, শকুন পরিবেশে কত গুরুত্বপূর্ণ। গবাদি পশুর ব্যথানাশক ডাইক্লোফেনাক শকুনের জন্য বিষ প্রমাণিত হওয়ায় ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি তারা প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যায়। এর ফলে মৃতদেহে দ্রুত রোগ ছড়াতে থাকে এবং ২০০০ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে ভারতে জলাতঙ্কসহ বিভিন্ন সংক্রমণে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে।
শকুন শুধু প্রকৃতির পরিচ্ছন্নতাকর্মী নয়, শিকার দমনে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রও। জিপিএস ট্যাগযুক্ত শকুনরা মৃতদেহ মানুষের আগেই খুঁজে পায়, তাই হঠাৎ তাদের একত্রে দেখা গেলে তা শিকার হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। আফ্রিকায় এই পদ্ধতিতে শিকার ধরা আরও কার্যকর হয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
আপনার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে মতামত লিখুন