× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৪, ২০২৫, ০৭:২৪ পিএম

আজও দেখা যাবে উল্কাবৃষ্টি

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৪, ২০২৫, ০৭:২৪ পিএম

উল্কাবৃষ্টি । ছবি- সংগৃহীত

উল্কাবৃষ্টি । ছবি- সংগৃহীত

ডিসেম্বরের শীতল রাত এবং পরিষ্কার আকাশ মানেই মহাকাশপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা। বছরের এই সময়ে আকাশের দিকে তাকালে দেখা যায় জেমিনিড উল্কাবৃষ্টির মনোমুগ্ধকর দৃশ্য।

২০২৫ সালে এই উল্কাবৃষ্টির সবচেয়ে ভালো সময় ধরা হয়েছে ১৩ ডিসেম্বর রাত থেকে ১৫ ডিসেম্বর সকাল পর্যন্ত। যদি গত রাতের এই অপূর্ব দৃশ্য মিস হয়ে যায় তাহলে আজ রাতেও আকাশে আলোর ঝলকানি দেখা যাবে।

জেমিনিড উল্কাবৃষ্টি কেন এত বিশেষ?

সাধারণ উল্কাবৃষ্টির তুলনায় জেমিনিড আলাদা ও অনেক বেশি আকর্ষণীয়। এটি ‘বছরের সবচেয়ে উজ্জ্বল উল্কাবৃষ্টি’ হিসেবে খ্যাত। আকাশ যদি পরিষ্কার থাকে এবং আলো কম থাকে, তাহলে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১২০টি উল্কাপাত দেখা যেতে পারে।

জেমিনিডের আরেকটি আকর্ষণ হলো এর রং। সাধারণত উল্কা সাদা হলেও জেমিনিডের উল্কাগুলো মাঝে মাঝে সবুজ, হলুদ, লাল বা নীল আভায় ঝলমল করে। এই রঙের বৈচিত্র্য আসে সোডিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং ক্যালসিয়ামের মতো ধাতুর কারণে। আকাশে কমলা, হলুদ, সবুজ বা নীল রঙের রেখা ছড়িয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করে রাখে।

উৎস এবং উৎপত্তি

সাধারণ উল্কাবৃষ্টি ধুমকেতুর ফেলে যাওয়া ধূলিকণা থেকে আসে। কিন্তু জেমিনিডের উৎস ভিন্ন। এটি ধূমকেতু নয়, বরং ৩২০০ ফায়েথন নামক একটি পাথুরে গ্রহাণুর ধ্বংসাবশেষ থেকে তৈরি। যখন এই গ্রহাণু সূর্যের কাছে আসে, তখন এর পাথরের টুকরো এবং ধূলিকণা মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে।

পৃথিবী যখন সেই ধূলিকণার স্তরের মধ্য দিয়ে যায়, তখন বায়ুমণ্ডলের ঘর্ষণে তারা জ্বলজ্বলে উজ্জ্বল রেখা তৈরি করে, যা আমরা ‘শুটিং স্টার’ বা খসে পড়া তারা হিসেবে দেখি।

৩২০০ ফায়েথন নিয়ে রহস্য

৩২০০ ফায়েথন নিয়ে বিজ্ঞানীদের কৌতূহল এখনো শেষ হয়নি। এটি গ্রহাণু নাকি ধূমকেতু—এ প্রশ্ন এখনো পুরোপুরি মেলেনি। বেশিরভাগ জ্যোতির্বিদ এটিকে গ্রহাণু মনে করেন, তবে এর আচরণ ধূমকেতুর মতো। এর ব্যাস প্রায় ছয় কিলোমিটার। সূর্যের কাছে আসার সময় এটি উজ্জ্বল হয়ে ওঠে এবং একটি ছোট লেজ দেখা দেয়। সাধারণ ধূমকেতুর লেজ বরফের গলনের ফলে তৈরি হলেও, ফায়েথনের লেজ মূলত সোডিয়াম গ্যাস থেকে তৈরি।

কখন এবং কীভাবে দেখা যাবে

২০২৫ সালের জেমিনিড উল্কাবৃষ্টি দেখার জন্য পরিস্থিতি ভালো। এর সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হলো ১৩ ডিসেম্বর রাত থেকে ১৫ ডিসেম্বর ভোর পর্যন্ত। এই সময় চাঁদ আকাশে বেশি উজ্জ্বল থাকবে না, ফলে উল্কাপাত আরও ভালোভাবে দেখা যাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাত দশটার পর আকাশের দিকে তাকানো শুরু করা ভালো। তখন জেমিনি নক্ষত্রমণ্ডল আকাশে উঁচুতে ওঠে। মধ্যরাতের পর উল্কাপাতের সংখ্যা বাড়ে এবং ভোরের দিকে সবচেয়ে স্পষ্ট দেখা যায়। চাঁদ ওঠার আগে পূর্ব দিকের আকাশ এবং ওঠার পর পশ্চিম দিকের আকাশ দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দেখতে গেলে কিছু প্রস্তুতি

উল্কাবৃষ্টি দেখতে টেলিস্কোপ বা দূরবিনের প্রয়োজন নেই, খালি চোখই যথেষ্ট। ভালো দেখা যায় খোলা এবং শহরের আলো কম থাকা স্থানে। একটি চেয়ার বা চাদর নিয়ে আরাম করে শুয়ে আকাশের বিস্তৃত অংশ দেখা যায়। চোখকে অন্ধকারের সঙ্গে মানাতে ২০-৩০ মিনিট সময় দিন এবং মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো উজ্জ্বল আলো ব্যবহার এড়ান। শীতের রাতে বাইরে থাকলে গরম কাপড় পরা জরুরি।

Link copied!