ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

কিডনির ব্যথা কোথায় হয়? জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মে ১০, ২০২৬, ০৭:২৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত

অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে কিডনি রোগীর সংখ্যা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় স্পষ্ট কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। তবে ধীরে ধীরে শরীরে কিছু লক্ষণ প্রকাশ পেতে শুরু করে।

কিডনির প্রধান কাজ হলো রক্ত ফিল্টার করে ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিনের মতো বর্জ্য পদার্থ প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দেওয়া। পাশাপাশি শরীরের পানির ভারসাম্য রক্ষা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, লোহিত রক্তকণিকা তৈরি এবং হাড় সুস্থ রাখতে প্রয়োজনীয় হরমোন উৎপাদনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে কিডনি।

কোনো কারণে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে এসব স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। তখন শরীরে বিভিন্ন ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

কিডনি রোগের সাধারণ লক্ষণ

  • সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগা
  • পা, গোড়ালি বা চোখের নিচে ফোলা
  • প্রস্রাবের পরিমাণ বা রঙে পরিবর্তন
  • ফেনাযুক্ত প্রস্রাব
  • ক্ষুধামন্দা, বমি বমি ভাব বা বমি
  • ত্বক শুষ্ক বা চুলকানি হওয়া
  • রাতে পেশিতে টান ধরা
  • ঘুমের সমস্যা বা মনোযোগ কমে যাওয়া
  • অকারণে ওজন কমে যাওয়া
  • শ্বাসকষ্ট
  • জ্বর বা ঠান্ডা লাগা
  • শরীর ফুলে যাওয়া
  • কোমর ও পিঠে ব্যথা

কিডনির ব্যথা কোথায় হয়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিডনির ব্যথা সাধারণত পিঠের নিচের অংশে বা কোমরের দুই পাশে অনুভূত হয়। অনেকেই এটিকে সাধারণ কোমর বা পেশির ব্যথা ভেবে ভুল করেন।

কিডনি সমস্যার ব্যথা চেনার কিছু উপায় হলো—

  • পিঠের এক বা দুই পাশে, পাঁজরের নিচের দিকে ব্যথা অনুভূত হয়
  • ব্যথা হালকা চাপের মতো বা গভীর ধরনের হতে পারে
  • কখনো কখনো ব্যথা নিচের পেট, কুঁচকি বা উরু পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে

 

ব্যথার ধরন

  • কিডনিতে পাথর হলে ব্যথা হঠাৎ তীব্র আকার ধারণ করতে পারে
  • কিডনিতে সংক্রমণ হলে ব্যথা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে
  • প্রস্রাবে যেসব পরিবর্তন দেখা দিতে পারে
  • ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া বা প্রস্রাব কমে যাওয়া
  • প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া বা দুর্গন্ধ
  • প্রস্রাব ঘোলা বা লালচে হওয়া
  • প্রস্রাবে রক্ত দেখা যাওয়া

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন

  • ব্যথা এক থেকে দুই দিনের বেশি স্থায়ী হলে
  • প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে
  • জ্বর বা ঠান্ডা লাগলে

এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।