ভ্রমণ মানেই কি অনেক টাকা? বিশাল ব্যাংক ব্যালেন্স আর বিলাসিতা? এই ধারণা এখন অতীত। বর্তমানে ‘বাজেট ট্রাভেল’ বা পরিমিত ব্যয়ে ভ্রমণের ধারণা বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। একটু পরিকল্পনা আর কৌশলী হলেই নামমাত্র খরচে আপনি ঘুরে আসতে পারেন দেশের পাহাড়-সমুদ্র কিংবা বিদেশের কোনো অচেনা শহর।
কীভাবে অল্প খরচে ভ্রমণের পরিকল্পনা করবেন? রইল তার কিছু কার্যকর টিপস।
১. অফ-সিজনে ভ্রমণের পরিকল্পনা
ভ্রমণের খরচ কমানোর প্রধান শর্ত হলো সময়ের সঠিক নির্বাচন। যখন সবাই বেড়াতে যায় (পিক সিজন), তখন যাতায়াত ও হোটেলের দাম থাকে আকাশচুম্বী। তাই একটু বুদ্ধি খাটিয়ে অফ-সিজনে যাওয়ার পরিকল্পনা করুন। যেমন—বর্ষায় সমুদ্র বা কড়া রোদে পাহাড়। এতে ভিড় যেমন কম পাবেন, তেমনি হোটেল বা রিসোর্ট বুকিংয়ে পেয়ে যাবেন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়।
২. যাতায়াতে সাশ্রয়: পাবলিক ট্রান্সপোর্টই ভরসা
ব্যক্তিগত গাড়ি বা বিমান এড়িয়ে লোকাল বাস, ট্রেন কিংবা লঞ্চ ব্যবহার করুন। এতে খরচের বড় একটা অংশ বেঁচে যায়। বিদেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে মাস-খানেক আগে টিকেট কাটলে বিমানে বড় ছাড় পাওয়া যায়। এছাড়া বড় শহরে যাতায়াতের জন্য উবার বা ট্যাক্সির বদলে মেট্রো রেল বা লোকাল বাস ব্যবহার করা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
৩. থাকার জায়গায় ভিন্নতা
সব সময় বড় হোটেল বা রিসোর্ট না খুঁজে হোম-স্টে, হোস্টেল কিংবা ডরমিটরি বেছে নিন। বিশেষ করে সাজেক বা বান্দরবানের মতো জায়গায় রিসোর্টের চেয়ে স্থানীয়দের কটেজে থাকা অনেক সাশ্রয়ী এবং রোমাঞ্চকর। বিদেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে 'ব্যাকপ্যাকার্স হোস্টেল' এখন বেশ জনপ্রিয়, যেখানে অল্প টাকায় থাকার পাশাপাশি বিশ্বের নানা প্রান্তের ভ্রমণপিপাসুদের সঙ্গে পরিচিত হওয়া যায়।
৪. খাবার হোক স্থানীয় দোকানে
ভ্রমণে গিয়ে নামি-দামি রেস্টুরেন্টের বদলে স্থানীয়দের পছন্দের সাধারণ দোকানগুলোতে খাওয়ার চেষ্টা করুন। এতে ওই অঞ্চলের আসল স্বাদও পাওয়া যায়, আবার খরচও থাকে হাতের নাগালে। স্ট্রিট ফুড ট্রাই করা বাজেট ট্রাভেলারদের জন্য একটি বড় আনন্দ।
৫. গন্তব্য নির্বাচনে সতর্কতা
বাজেট ট্রাভেলের জন্য প্রতিবেশী দেশগুলো হতে পারে সেরা পছন্দ। যেমন: ভারত, নেপাল বা ভুটান। ভারতের মেঘালয় বা সিকিম ভ্রমণে খরচ আমাদের দেশের ভেতরের ট্যুরের চেয়েও অনেক সময় কম হয়। আর দেশের ভেতরে হলে সীতাকুণ্ডের ট্রেইল বা হাওর অঞ্চলে দল বেঁধে গেলে খরচ মাথাপিছু অনেক কমে আসে।
৬. হালকা ব্যাগ ও প্রয়োজনীয় জিনিস
অপ্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে ব্যাগ ভারী করবেন না। এতে যাতায়াতে কষ্ট বাড়ে এবং অতিরিক্ত লাগেজ ফি দেওয়ার ঝুঁকি থাকে। সাথে পাওয়ার ব্যাংক, কিছু শুকনো খাবার আর পানির বোতল রাখুন, যাতে পথে বারবার টাকা খরচ না হয়।
৭. দলগত ভ্রমণ (Group Travel)
একা ভ্রমণের চেয়ে ৪-৫ জনের একটি দল হয়ে ঘুরলে হোটেল ভাড়া, যাতায়াত এবং গাইডের খরচ ভাগ হয়ে যায়। ফলে মাথাপিছু ব্যয় অনেক কমে আসে।
ভ্রমণ আসলে বিলাসিতা নয়, বরং অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যম। আপনি কত দামি হোটেলে থাকলেন তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ আপনি কী কী দেখলেন এবং কতটা উপভোগ করলেন। সঠিক পরিকল্পনা আর সদিচ্ছা থাকলে সীমিত বাজেটও আপনার বিশ্বজয়ের পথে বাধা হতে পারবে না।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন