রমজানে সুস্থ থাকতে কোন খাবার নির্বাচন করতে হবে আর কোন খাবার বর্জন করতে হবে। পবিত্র রমজান মাসে দীর্ঘ সময় (প্রায় ১৪-১৫ ঘণ্টা) উপোস থাকার পর ইফতার ও সেহরিতে খাবারের সঠিক নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে ইফতারে ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার খাওয়ার যে সংস্কৃতি রয়েছে, তা সরাসরি হজম প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটায়। ফলে বুক জ্বালাপোড়া, গ্যাস্ট্রিক, পেট ফাঁপা ও কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দেখা দেয়।
১. কী খাবেন: হজমে সহায়ক খাবার
শরীরকে সতেজ রাখতে এবং হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে নিচের খাবারগুলো খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি:
আঁশযুক্ত খাবার (Fiber) : লাল চালের ভাত, লাল আটার রুটি, ওটস এবং ডাল হজম প্রক্রিয়াকে ধীর ও স্থিতিশীল রাখে। এতে দীর্ঘক্ষণ ক্ষুধা লাগে না।
প্রচুর পানি ও তরল : ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত ৮-১০ গ্লাস পানি পান নিশ্চিত করতে হবে। ডাবের পানি বা ঘরে তৈরি ফলের রস ইলেকট্রোলাইট ব্যালেন্স বজায় রাখে।
প্রোবায়োটিক (দই) : দইয়ে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া হজমে সরাসরি সাহায্য করে এবং পাকস্থলী ঠান্ডা রাখে।
সহজপাচ্য ফল : কলা, পেঁপে এবং তরমুজ পাকস্থলীর এসিডিটি কমাতে সাহায্য করে।
প্রোটিন : সেহরিতে মাছ বা মুরগির মাংসের মতো হালকা প্রোটিন খাওয়া ভালো, যা হজম করা সহজ।
২. কী খাবেন না : যা হজমে সমস্যা তৈরি করে
অসুস্থতা এড়াতে নিচের খাবারগুলো এড়িয়ে চলা বা সীমিত করা উচিত :
অতিরিক্ত তৈলাক্ত ও ভাজাপোড়া : পিয়াজু, বেগুনি, চপ বা সিঙ্গাড়া পাকস্থলীতে অ্যাসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং দীর্ঘমেয়াদি বদহজম তৈরি করে।
অতিরিক্ত চিনি ও ক্যাফেইন : কৃত্রিম চিনিযুক্ত শরবত বা সোডা পেট ফাঁপা তৈরি করে। এ ছাড়া সেহরিতে চা বা কফি পান করলে শরীর ডিহাইড্রেটেড হয়ে পড়ে।
ঝাল ও কড়া মশলা : অতিরিক্ত মশলাযুক্ত তরকারি পাকস্থলীর আস্তরণে প্রদাহ সৃষ্টি করে। ফলে বুক জ্বালাপোড়া (Heartburn) হয়।
প্রসেসড ফুড : প্যাকেটজাত খাবার বা অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার তৃষ্ণা বাড়িয়ে দেয় এবং হজমে দেরি করে।
৩. হজম ঠিক রাখার বিশেষ টিপস
খাবার নির্বাচনের পাশাপাশি খাওয়ার ধরনও গুরুত্বপূর্ণ :
একবারে বেশি না খাওয়া : ইফতারে পেট ভরে না খেয়ে অল্প অল্প করে কয়েকবারে খান।
ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়া : দ্রুত খাবার খেলে বাতাস ভেতরে ঢুকে পেট ফাঁপা তৈরি করতে পারে।
খাওয়ার সাথে সাথে না ঘুমানো : সেহরি বা ইফতারের পরপরই শুয়ে পড়লে রিফ্লাক্সের সমস্যা হয়। অন্তত ৩০-৪০ মিনিট পর বিশ্রাম নিন।
বরফ পানি বর্জন : অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি পরিপাকতন্ত্রের রক্তনালী সংকুচিত করে হজমে বাধা দেয়। সাধারণ তাপমাত্রার পানি পান করুন।
রমজানে সুস্থ থাকা মূলত শৃঙ্খলার বিষয়। ভাজাপোড়ার লোভ সামলে সুষম ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করলে হজমের সমস্যা ছাড়াই পুরো মাস সুস্থভাবে রোজা রাখা সম্ভব। মনে রাখবেন, অতিরিক্ত আহার রোজার মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থি এবং স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।


