তামাক নিয়ন্ত্রণকে কোনো ব্যক্তি বা ধূমপায়ীকে শাস্তি দেওয়ার বিষয় হিসেবে না দেখে একে বৃহত্তর জনকল্যাণ নিশ্চিত করার একটি উপায় হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাজধানীর ধানমন্ডিতে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি)-এর কার্যালয়ে আয়োজিত এক ওরিয়েন্টেশন কর্মশালায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ মূলত গুটিকয়েক ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর সংকীর্ণ মুনাফা এবং দেশের বিশাল জনস্বার্থের মধ্যকার একটি প্রতিযোগিতা। তামাক নিয়ন্ত্রণ মানে কাউকে নিষিদ্ধ করা নয়; বরং কর আরোপ, বিক্রয় নিয়ন্ত্রণ ও বিজ্ঞাপনের সীমাবদ্ধতার মতো নীতিগত কৌশল ব্যবহার করে জনকল্যাণ নিশ্চিত করা। এই প্রক্রিয়ায় সমাজকে অবশ্যই জনস্বার্থের পক্ষেই দৃঢ়ভাবে অবস্থান নিতে হবে বলে তিনি মনে করেন।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইনস্টিটিউট অব হেলথ ইকোনমিক্সের পরিচালক অধ্যাপক ড. শাফিউন এন. শিমুল তামাক করের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে মূল উপস্থাপনা প্রদান করেন। তিনি জানান, তামাক কর বাড়ালে সরকারের রাজস্ব কমে যাবে তামাক কোম্পানিগুলোর এমন প্রচারণার কোনো প্রমাণ নেই। বরং প্রস্তাবিত কর সংস্কার বাস্তবায়িত হলে সরকার আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব অর্জন করতে পারবে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ জনস্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের বড় সুযোগ তৈরি করবে।
ড. শাফিউন এন. শিমুল বর্তমান বাজারের চিত্র তুলে ধরে জানান, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে সিগারেটের দাম এখনো অনেক কম, যা তামাকজাত পণ্যকে সহজলভ্য করে তুলেছে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, দেশের সিগারেট বাজারের প্রায় ৯০ শতাংশই নিম্ন ও মধ্যম মূল্যের সিগারেট দ্বারা দখল হয়ে আছে। এর ফলে একদিকে যেমন ব্যবহার বাড়ছে, অন্যদিকে তামাকজনিত রোগের চিকিৎসায় প্রতিবছর দেশে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকার স্বাস্থ্য ব্যয় হচ্ছে।
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে কর্মশালায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। তা হলো নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট একীভূত করে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটের সর্বনিম্ন মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ করা এবং সিগারেটের সব মূল্যস্তরে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে ৪ টাকা করে নির্দিষ্ট কর আরোপ করা। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই কর বৃদ্ধি কার্যকর হলে প্রায় চার লাখ কিশোর-কিশোরীকে শুরুতেই তামাকের মরণঘাতী আসক্তি থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে।
কর্মশালায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রায় ৫০ জন সাংবাদিক এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্ট কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন, যাদের বাজেট ও কর কাঠামো বিষয়ে বিস্তারিত অবহিত করা হয়। কর্মশালাটি যৌথভাবে আয়োজন করে ইকোনোমিক্স ফর হেলথ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, সিটিএফকে, ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিস এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইএইচই।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন