ম্যালেরিয়া একটি পরজীবী ঘটিত রোগ, যা মূলত স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। আমাদের দেশে বিশেষ করে পার্বত্য ও বনাঞ্চলীয় এলাকায় এই রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়। সচেতনতা এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা গ্রহণ করলে ম্যালেরিয়া থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া সম্ভব।
ম্যালেরিয়া একটি পরিচিত কিন্তু অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ মশাবাহিত রোগ। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নিলে এটি প্রাণঘাতী হতে পারে।
ম্যালেরিয়ার প্রধান লক্ষণসমূহ
মশার কামড়ের ১০ থেকে ১৫ দিন পর সাধারণত লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে শুরু করে। প্রধান লক্ষণগুলো হলো:
তীব্র জ্বর: হঠাৎ করে কাঁপনি দিয়ে উচ্চ তাপমাত্রার জ্বর আসা। এই জ্বর নিয়মিত বিরতিতে (যেমন প্রতিদিন বা একদিন পর পর) আসতে পারে।
মাথাব্যথা ও শরীর ব্যথা: জ্বরের সঙ্গে তীব্র মাথাব্যথা এবং মাংসপেশিতে অসহ্য যন্ত্রণা অনুভূত হয়।
অতিরিক্ত ঘাম: জ্বর ছেড়ে যাওয়ার সময় রোগী প্রচুর পরিমাণে ঘামতে থাকে এবং শরীরের তাপমাত্রা কমে যায়।
বমি ও বমি ভাব: পেটে অস্বস্তি, বমি ভাব কিংবা বারবার বমি হওয়া।
ক্লান্তি ও রক্তাল্পতা: দীর্ঘক্ষণ আক্রান্ত থাকলে শরীরে রক্তশূন্যতা দেখা দেয় এবং রোগী মারাত্মক দুর্বল হয়ে পড়ে।
জটিলতা: সঠিক চিকিৎসা না পেলে খিঁচুনি, শ্বাসকষ্ট এমনকি রোগী কোমায় চলে যেতে পারে (সেরিব্রাল ম্যালেরিয়া)।
আক্রান্ত হলে করণীয় ও প্রতিকার
যদি কারও মধ্যে ম্যালেরিয়ার লক্ষণ দেখা দেয়, তবে বিলম্ব না করে নিচের পদক্ষেপগুলো নেওয়া উচিত:
দ্রুত রক্ত পরীক্ষা: নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে গিয়ে দ্রুত রক্তের 'এমপি' (Malaria Parasite) পরীক্ষা করানো জরুরি।
চিকিৎসকের পরামর্শ: পরীক্ষার ফল পজিটিভ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট মেয়াদে ম্যালেরিয়া প্রতিরোধী ওষুধ সেবন করতে হবে। ওষুধের কোর্স মাঝপথে বন্ধ করা যাবে না।
বিশ্রাম ও পুষ্টিকর খাবার: রোগীকে পর্যাপ্ত বিশ্রামে থাকতে হবে এবং প্রচুর পরিমাণে জল, ডাবের জল ও তরল খাবার খাওয়াতে হবে।
ম্যালেরিয়া প্রতিরোধের কার্যকর উপায়
ম্যালেরিয়া থেকে বাঁচতে হলে মশার বংশবিস্তার রোধ এবং মশার কামড় থেকে দূরে থাকা সবচেয়ে জরুরি:
মশারি ব্যবহার: রাতে বা দিনে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করতে হবে।
আশপাশ পরিষ্কার রাখা: বাড়ির চারপাশের জঙ্গল পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও যেন পানি জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখা (যাতে মশা ডিম পাড়তে না পারে)।
মশা তাড়ানোর ব্যবস্থা: মশার কয়েল, স্প্রে বা ইলেকট্রিক ব্যাট ব্যবহার করা যেতে পারে। বাইরে বের হওয়ার সময় শরীর ঢাকা থাকে এমন পোশাক পরা বা মশা তাড়ানোর ক্রিম ব্যবহার করা ভালো।
সচেতনতা: বিশেষ করে বর্ষাকালে মশার উপদ্রব বাড়ে, তাই এই সময়ে বাড়ির ড্রেন ও নর্দমায় নিয়মিত লার্ভিসাইড বা কেরোসিন ছিটানো উচিত।
ম্যালেরিয়া কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়। তবে জ্বরকে অবহেলা না করে দ্রুত রক্ত পরীক্ষা করানোই বুদ্ধিমানের কাজ। সরকারি হাসপাতালগুলোতে ম্যালেরিয়ার পরীক্ষা ও চিকিৎসা বিনামূল্যে পাওয়া যায়।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন