দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে হামে আক্রান্তের সংখ্যা কবে কমবে?
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৯ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে ১০ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহজনক হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১৭৭ শিশু এবং নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ১৬৮ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১৪৪ শিশু এবং নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ২৩ জনের। এ সময়ে আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ৪০৯ শিশু এবং সন্দেহজনক রোগী হিসেবে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮ হাজার ৯১০ জন। ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৬ হাজার ৬০৯ শিশু।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ইতোমধ্যে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। গত ৫ এপ্রিল থেকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় টিকাদান চলছে। আগামী ১২ এপ্রিল ঢাকা-র দুই সিটিসহ ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশনে এবং ২০ এপ্রিল সারা দেশে একযোগে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, আগে টিকা নেওয়া থাকলেও ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশু এই টিকা নিতে পারবে। তবে অসুস্থ অবস্থায় টিকা না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদান কর্মসূচি সফল হলে আক্রান্তের সংখ্যা কমতে অন্তত ১৫ দিন থেকে এক মাস সময় লাগতে পারে। কারণ শরীরে টিকার কার্যকারিতা তৈরি হতে এই সময় প্রয়োজন।
শিশু সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মীর্জা মো. জিয়াউল ইসলাম বলেন, টিকা দেওয়ার পর শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে তৈরি হয় এবং দ্বিতীয় ডোজের পর তা আরও কার্যকর হয়ে ওঠে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, টিকার কারণে এক মাসের মধ্যে রোগীর সংখ্যা কমতে শুরু করবে। তবে মৃত্যুহার কমতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, একটি ডোজ আংশিক সুরক্ষা দিলেও দুই ডোজ টিকা নিলে পূর্ণ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে। তাই চলমান ক্যাম্পেইনের পাশাপাশি জুন মাসে বুস্টার ডোজ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় আক্রান্তদের সংস্পর্শে দ্রুত ছড়াচ্ছে। একই পরিবারের একাধিক শিশু আক্রান্ত হচ্ছে। ঘনবসতির কারণে রাজধানী ঢাকা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এ অবস্থায় সংক্রমণ ঠেকাতে আক্রান্তদের আলাদা রেখে পাড়া-মহল্লাভিত্তিক আইসোলেশন নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।


