পুরুষের বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে পরিবর্তন আসে, যার মধ্যে অন্যতম হলো ‘প্রোস্টেট গ্রন্থি’। অনেক ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে পরীক্ষা না করার ফলে প্রোস্টেট ক্যান্সার বা বড় ধরনের জটিলতা ধরা পড়ে অনেক দেরিতে। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো স্ক্রিনিং বা পরীক্ষা করালে এই ঝুঁকি থেকে শতভাগ মুক্ত থাকা সম্ভব।
১. প্রোস্টেট পরীক্ষা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
প্রোস্টেট হলো পুরুষ প্রজননতন্ত্রের একটি ছোট গ্রন্থি। এটি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার প্রধান কারণগুলো হলো:
ক্যান্সার শনাক্তকরণ: পুরুষদের মধ্যে আক্রান্ত হওয়ার দিক থেকে প্রোস্টেট ক্যান্সার বিশ্বে অন্যতম শীর্ষ স্থানে। প্রাথমিক অবস্থায় এর কোনো লক্ষণ থাকে না, যা কেবল পরীক্ষার মাধ্যমেই ধরা সম্ভব।
বিপিএইচ (BPH) নির্ণয়: বয়স বাড়লে অনেকের প্রোস্টেট বড় হয়ে যায় (Benign Prostatic Hyperplasia), যার ফলে প্রস্রাবে সমস্যা হয়। পরীক্ষার মাধ্যমে এটি ক্যান্সার নাকি সাধারণ বৃদ্ধি, তা নিশ্চিত হওয়া যায়।
যৌন স্বাস্থ্য রক্ষা: প্রোস্টেট গ্রন্থির স্বাস্থ্য সরাসরি প্রজনন ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত।
২. কখন এই পরীক্ষা করাতে হবে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রোস্টেট পরীক্ষার সময় নির্ভর করে ব্যক্তির বয়স এবং পারিবারিক ইতিহাসের ওপর:
৫০ বছর বয়সে: সাধারণ ঝুঁকির আওতায় থাকা পুরুষদের ৫০ বছর বয়স হওয়ার পর নিয়মিত প্রোস্টেট পরীক্ষা শুরু করা উচিত।
৪৫ বছর বয়সে: যাদের পরিবারে (বাবা বা ভাই) প্রোস্টেট ক্যান্সারের ইতিহাস আছে, তাদের ৪৫ বছর বয়স থেকেই সচেতন হতে হবে।
লক্ষণ দেখা দিলে: বয়স যাই হোক না কেন, নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করাতে হবে:
প্রস্রাব শুরু করতে সমস্যা হওয়া বা বারবার প্রস্রাবের বেগ হওয়া।
প্রস্রাবের প্রবাহ দুর্বল হয়ে যাওয়া বা ফোঁটায় ফোঁটায় প্রস্রাব হওয়া।
রাতে বারবার প্রস্রাবের জন্য ঘুম ভেঙে যাওয়া।
প্রস্রাব বা বীর্যের সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
তলপেটে বা কোমরের নিচের দিকে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা।
৩. কী কী পরীক্ষা করা হয়?
প্রোস্টেট সুস্থ আছে কি না তা বুঝতে সাধারণত দুটি প্রাথমিক পরীক্ষা করা হয়:
PSA (Prostate-Specific Antigen) টেস্ট: এটি একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষা। রক্তে পিএসএ-র মাত্রা বেশি থাকলে প্রোস্টেটে সমস্যা থাকার সম্ভাবনা থাকে।
DRE (Digital Rectal Exam): এই পরীক্ষায় চিকিৎসক আঙুলের সাহায্যে প্রোস্টেট গ্রন্থির আকার বা অস্বাভাবিকতা পরীক্ষা করেন।
চিকিৎসকের পরামর্শ
ইউরোলজিস্টদের মতে, “প্রোস্টেট ক্যান্সার মানেই মৃত্যু নয়। যদি এটি প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়ে, তবে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে রোগী পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন। তাই দ্বিধা বা লজ্জা ঝেড়ে ফেলে নির্দিষ্ট বয়সের পর নিয়মিত স্ক্রিনিং করানোই বুদ্ধিমানের কাজ।”


