বর্তমান সময়ে ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিভিন্ন ভাইরাসজনিত রোগ। অনেক সময় দেখা যায়, জ্বর ও শরীরে লালচে দানাদার র্যাশ বা ফুসকুড়ি ওঠায় রোগীকে প্রাথমিকভাবে ‘হাম’ বলে ধরে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, সব র্যাশ বা ফুসকুড়িই হাম নয়। হামের মতো উপসর্গ থাকলেও তা রুবেলা, স্কারলেট ফিভার কিংবা রোজোলা হতে পারে। সঠিক সময়ে পার্থক্য বুঝতে না পারলে চিকিৎসার ক্ষেত্রে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে।
হাম বনাম অন্যান্য রোগ: পার্থক্যের মূলসূত্র
চিকিৎসকদের মতে, হামের সাথে অন্যান্য রোগের কিছু সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে যা সাধারণ মানুষও একটু সচেতন হলে বুঝতে পারবেন:
১. হাম (Measles): হামের প্রধান লক্ষণ হলো প্রচণ্ড জ্বর, সাথে কাশি, সর্দি এবং চোখ লাল হয়ে জল পড়া। তবে হাম শনাক্ত করার প্রধান উপায় হলো মুখ গহ্বরের ভেতরে গালের উল্টো দিকে ‘কপলিক স্পট’ (ছোট সাদাটে দাগ)। হামের র্যাশ সাধারণত কানে পেছন থেকে শুরু হয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে এটি কালচে হয়ে চামড়া উঠতে থাকে।
২. রুবেলা (German Measles): রুবেলা বা জার্মান মিজলস দেখতে অনেকটা হামের মতোই। তবে এটি হামের মতো অতটা তীব্র নয়। রুবেলার ক্ষেত্রে জ্বরের মাত্রা কম থাকে এবং ঘাড়ের পেছনের লসিকা গ্রন্থি (Lymph Nodes) ফুলে যায়। এটি হামের চেয়ে দ্রুত সেরে যায়, তবে গর্ভবতী নারীদের জন্য রুবেলা অত্যন্ত বিপজ্জনক।
৩. স্কারলেট ফিভার (Scarlet Fever): এটি কোনো ভাইরাস নয়, বরং ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ। এতেও শরীরে লালচে দানা দেখা দেয়। তবে পার্থক্য হলো, স্কারলেট ফিভারে রোগীর জিভ অনেকটা লাল টকটকে স্ট্রবেরির মতো হয়ে যায় (Strawberry Tongue) এবং গলায় প্রচণ্ড ব্যথা থাকে।
৪. রোজোলা (Roseola Infantum): এটি সাধারণত ছোট শিশুদের বেশি হয়। এক্ষেত্রে টানা ৩-৪ দিন প্রচণ্ড জ্বর থাকে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, জ্বর পুরোপুরি সেরে যাওয়ার পরেই কেবল শরীরে গোলাপি বা লালচে র্যাশ দেখা দেয়। কিন্তু হামের ক্ষেত্রে জ্বর থাকা অবস্থাতেই র্যাশ দেখা যায়।
কখন সতর্ক হবেন?
যেকোনো ধরনের জ্বর ও র্যাশ দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে কিছু বিষয় লক্ষ্য রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা:
রোগীর শ্বাসকষ্ট হচ্ছে কি না, প্রচণ্ড মাথাব্যথা বা ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, শরীর অতিরিক্ত দুর্বল হয়ে পড়া এবং র্যাশের রঙ যদি বেগুনি বা কালচে হয়ে যায়।
প্রতিরোধের উপায় ও করণীয়
টিকাদান: হাম ও রুবেলা প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সঠিক সময়ে এমআর (MR) টিকা নেওয়া।
বিচ্ছিন্ন রাখা: যেকোনো সংক্রামক রোগ দেখা দিলে রোগীকে অন্য সদস্য, বিশেষ করে শিশু ও গর্ভবতী নারীদের কাছ থেকে আলাদা রাখা উচিত।
পর্যাপ্ত তরল খাবার: জ্বর ও সংক্রমণের সময় ডাবের পানি, ওরস্যালাইন এবং পুষ্টিকর তরল খাবার নিশ্চিত করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: র্যাশ বা ফুসকুড়ি দেখলেই ঘরোয়া টোটকা বা হাতুড়ে চিকিৎসায় সময় নষ্ট করা ঠিক নয়। এটি হাম নাকি অন্য কোনো জটিল রোগ, তা নিশ্চিত করতে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোই হবে বুদ্ধিমানের কাজ


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন