ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

নির্বাচনের আগে হ্যাক হয়েছিল যেসব নেতাদের এক্স অ্যাকাউন্ট

ডিজিটাল দুনিয়া ডেস্ক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম
এক্স-এর- প্রতীকি ছবি

বর্তমান যুগে গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা অত্যধিক। তবে নির্বাচনের আগে বা রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসব প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহার জনমনে উদ্বেগ তৈরি করছে। বিশেষ করে বিশ্বনেতাদের এক্স (তৎকালীন টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার ঘটনা বেড়েছে। বারাক ওবামা, জো বাইডেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প, নরেন্দ্র মোদী, ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ- কেউই এই হ্যাকারদের লক্ষ্য থেকে বাদ যাননি।

২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চার মাস আগে এক্স-এ বড় ধরনের সাইবার হামলার শিকার হন জো বাইডেন, বারাক ওবামা, ইলন মাস্ক, বিল গেটসসহ বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির ভেরিফাইড অ্যাকাউন্ট। হ্যাকাররা ক্রিপ্টোকারেন্সি দ্বিগুণ করে ফেরত দেওয়ার প্রলোভন দিয়ে পোস্ট দেন। প্রায় তিন ঘণ্টা পর এক্স কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ভেরিফাইড সব অ্যাকাউন্টের পোস্ট করার ক্ষমতা সাময়িকভাবে বন্ধ করে। এই হামলায় হ্যাকাররা প্রায় ১,১০,০০০ ডলার হাতিয়ে নেন। যদিও নির্বাচনের ফলাফলে সরাসরি প্রভাব না থাকলেও, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তা এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক ভিন্নধর্মী ছিল। ২০১৬ সালে তার পাসওয়ার্ড ছিল ‘yourefired’, আর ২০২০ সালে ‘maga2020!’। ডাচ সাইবার গবেষক ভিক্টর গেভার্স অনুমান করেই অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করেন এবং পরে হোয়াইট হাউজকে সতর্ক করেন। এরপর ট্রাম্পের এক্স অ্যাকাউন্টে দুই-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু হয়। ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের প্রচারণা দলের কিছু অ্যাকাউন্ট ইরানি হ্যাকারদের দ্বারা হ্যাক হয় এবং সংবেদনশীল তথ্য চুরি হয়।

২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে রাশিয়ান হ্যাকাররা ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটির (ডিএনসি) ই-মেইল হ্যাক করেন। এর ফলে ডেবি ওয়াসারম্যান শুলজ পদত্যাগ করেন। হ্যাকিংয়ের ফলে হিলারি ক্লিনটনের প্রচারণা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প সুবিধা পান। তবে ভোটিং মেশিনে সরাসরি হস্তক্ষেপ হয়নি।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এক্স অ্যাকাউন্টও একাধিকবার হ্যাকের শিকার হয়েছে। ২০২০ সালে তার ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট-সংযুক্ত অ্যাকাউন্ট এবং ২০২১ সালে মূল এক্স অ্যাকাউন্টে অনুপ্রবেশ ঘটে। হ্যাকাররা ভুয়া পোস্টে জানিয়েছিলেন যে ভারত সরকার বিটকয়েনকে বৈধতা দিয়েছে। সরকার দ্রুত বিজ্ঞপ্তি জারি করে বিভ্রান্তি কমায়।

২০১৭ সালের ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দুইদিন আগে ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর প্রচারণা দলের হাজারো ইমেইল ও নথি হ্যাক করা হয়। Fancy Bear গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত রাশিয়ান হ্যাকারদের দায়ের অভিযোগে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। তবে ম্যাক্রোঁ বিপুল ভোটে জয়ী হন (৬৬ শতাংশ), এবং হ্যাকড ডেটার মধ্যে মিথ্যা তথ্য মেশানো থাকায় প্রভাব কমে যায়।

বাংলাদেশেও নির্বাচনী উত্তাপের মধ্যে সাইবার নিরাপত্তা ইস্যু সামনে এসেছে। সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। হ্যাকাররা বিতর্কিত পোস্ট দিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন। দল দ্রুত অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে, তবে বিরোধীরা ঘটনাটি মিথ্যা দাবি হিসেবে দেখাচ্ছেন।

যেভাবে এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়

এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের সাধারণ উপায় হলো ফিশিং লিঙ্কে ক্লিক করা, দুর্বল পাসওয়ার্ড ব্যবহার, অনিরাপদ নেটওয়ার্কে ম্যান-ইন-দ্য-মিডল আক্রমণ এবং ডিভাইসে ম্যালওয়্যার ইনস্টল করা। হ্যাকের সংকেত হতে পারে অনুমোদনবিহীন পোস্ট, অপ্রত্যাশিত আচরণ, এক্স থেকে সতর্কবার্তা, লগইন সমস্যা বা অজানা অর্থ ও ক্রিপ্টো লেনদেন।

হ্যাকের ঝুঁকি কমাতে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার, দুই-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু করা, ডিভাইস লক করা, সন্দেহজনক ইমেইল এড়িয়ে চলা এবং কেবল বিশ্বাসযোগ্য অ্যাপ ডাউনলোড করা গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত পদক্ষেপ এবং সচেতন ব্যবহার অভ্যাস হ্যাকিং থেকে সুরক্ষা এবং সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি এড়াতে সাহায্য করে।