আওয়ামী শাসনামলে র্যাবের টিএফআই সেলে ১৪ জনকে গুম ও নির্যাতনের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) ১০ সেনা কর্মকর্তাকে হাজির করা হয়েছে। তাদের প্রিজনভ্যানে করে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের বিশেষ কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারিক প্যানেল আজ ওই মামলায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেবেন। এতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তাসহ আরও আসামি রয়েছেন। এদিন আসামিদের পক্ষে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চাওয়া হলে তারও সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।
গ্রেপ্তার ১০ সেনা কর্মকর্তা হলেন—ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, মো. কামরুল হাসান, মো. মাহাবুব আলম, কে এম আজাদ; কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন ও আনোয়ার লতিফ খান (অবসরপ্রাপ্ত); লে. কর্নেল মো. মশিউর রহমান, সাইফুল ইসলাম সুমন ও মো. সারওয়ার বিন কাশেম।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ সাত আসামি পলাতক।
আওয়ামী শাসনামলে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক দুই মামলায় গত ৮ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ৩০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এর মধ্যে প্রধানত সেনাবাহিনীর সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা রয়েছেন।
এরপর ১১ অক্টোবর সেনাবাহিনী সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিল, ৩০ আসামির মধ্যে ২৫ জনই সেনা কর্মকর্তার সাবেক বা বর্তমান সদস্য। তাদের মধ্যে ৯ জন অবসরপ্রাপ্ত, একজন এলপিআরে গেছেন এবং ১৫ জন বর্তমানে কর্মরত।
১২ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে ঢাকা সেনানিবাসের একটি ভবনকে সাময়িকভাবে কারাগার হিসেবে ঘোষণা করে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের উপসচিব মো. হাফিজ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ঢাকা সেনানিবাসের বাশার রোডসংলগ্ন ‘এমইএস’ বিল্ডিং নং-৫৪ সাময়িকভাবে কারাগার হিসেবে ব্যবহৃত হবে। গ্রেপ্তার সেনা কর্মকর্তাদের পরে সেখানে রাখা হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন