জামিনের আশায় আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ন্যাশনাল ব্যাংকের সাবেক পরিচালক খলিলুর রহমান।
জানা গেছে, রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদেশের পর বিকেলে তাকে হাতকড়া ও হেলমেট পরিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়।
নির্ভরযোগ্যসূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারের পর সন্ধ্যায় খলিলুর রহমানের শারীরিক অসুস্থতার কথা জানানো হয়। এর পর পুলিশ প্রহরায় তাকে কারাগার থেকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আদালত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) খলিলুর রহমানের আইনজীবীরা তার পক্ষে আবারও জামিন আবেদন করেন। তবে বিচারক সেই আবেদনও নাকচ করে দেন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে সাদ মুসা গ্রুপকে দেওয়া ৪৫৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানসহ মোট ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সংস্থাটি।
এই মামলায় সিকদার গ্রুপের চার পরিচালককেও আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন— ব্যবস্থাপনা পরিচালক রন হক সিকদার, তার ভাই রিক হক সিকদার, মা মনোয়ারা সিকদার এবং বোন ও সাবেক সংসদ সদস্য পারভীন হক সিকদার।
গত ৩০ ডিসেম্বর দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলাটি দায়ের করেন দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক রাম প্রসাদ মণ্ডল। মামলার বিষয়টি গত ১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৪ মে ন্যাশনাল ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক মনোয়ারা সিকদার, সাবেক পরিচালক খলিলুর রহমানসহ মোট ১৫ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন গালিব। দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেওয়া হয়েছিল।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, ন্যাশনাল ব্যাংকের মহাখালী শাখা থেকে ব্রডওয়ে রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের নামে পূর্বপরিকল্পিতভাবে যোগসাজশে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিয়মবহির্ভূতভাবে ৪৫৯ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে পুরো টাকাটা আত্মসাৎ করা হয়।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন