রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা আলোচিত মামলার দুই আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রোববার (০৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডের পাশাপাশি আসামি সোহেলকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অপরদিকে আসামি স্বপ্নাকে দণ্ডের পাশাপাশি দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড ভিকটিম রামিসার আইনগত উত্তরাধিকার পাবে।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং অপর আসামি স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। এই অর্থ ভিকটিম রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারকে প্রদান করার নির্দেশ দেন আদালত।
অর্থদণ্ড পরিশোধে ব্যর্থ হলে আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ভিকটিমের আইনগত উত্তরাধিকারকে অর্থ পরিশোধেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের ১৯ দিনের মাথায় এ রায় ঘোষণা করা হলো।
এর আগে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রথমে স্বপ্না আক্তারকে আদালতে আনা হয়। পরে ৮টা ৫০ মিনিটে প্রিজনভ্যানে করে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। পরে তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয় এবং রায় ঘোষণার আগে এজলাসে তোলা হয়। বেলা ১১টার পর বিচারক রায় পাঠ শুরু করেন।
রায়কে কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে পল্লবীতে এই ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরদিন ২০ মে রাত ১২টা ৫ মিনিটে ভিকটিমের বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। এতে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার পাশাপাশি লাশ গুমে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়।
ঘটনার মাত্র চার দিনের মাথায়, ২৪ মে তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে মোট ১৮ জন সাক্ষী অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এর আগে ৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায়ের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেন। মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে মামলার বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন হয়।
১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয় এবং ২ জুন সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ওই দিনই ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য ও জেরা শেষ হয়। পরদিন আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা বাসা থেকে বের হয়। পরে তাকে স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাদের কক্ষে নিয়ে যান বলে অভিযোগ ওঠে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে খোঁজাখুঁজির সময় মায়ের নজরে পড়ে আসামিদের ঘরের সামনে রামিসার জুতা।
পরিবার ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্না আক্তারকে আটক করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন