× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম

আপনি ইফতারির মুড়িমাখায় জিলাপির পক্ষে না বিপক্ষে?

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম

ছবি- এআই দিয়ে তৈরি

ছবি- এআই দিয়ে তৈরি

ইফতারের আজান পড়তেই টেবিলে সাজানো মুড়ি, বেগুনি, পেয়াজু আর ছোলার গন্ধে ভরে ওঠে ঘর। ঠিক তখনই শুরু হয় চিরচেনা এক বিতর্ক—ঝাল মুড়ি মাখায় কি থাকবে টসটসে মিষ্টি জিলাপি? কারও কাছে এটি স্বাদের অনন্য সমন্বয়, আবার কারও কাছে একেবারে ‘রন্ধন অপরাধ’। ডাইনিং টেবিল থেকে ফেসবুক—সবখানেই এখন একটাই প্রশ্ন: মুড়িমাখায় জিলাপি, পক্ষে না বিপক্ষে?

পবিত্র রমজান মাসে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা পালন করেন বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমান। সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে ইফতারের মাধ্যমে ভাঙে দিনভর উপবাস। আর আমাদের দেশে ইফতার মানেই নানা রকম ভাজাপোড়া আর মুখরোচক আয়োজন।

ইফতারের টেবিলে সাধারণত থাকে সুতি কাবাব, মাংসের কিমা, ডাবলি, বুটের ডাল, ডিম, পেয়াজু, বেগুনি, ছোলা ও মুড়ি। এর মধ্যে মুড়ি মাখা বাঙালিদের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়। আলুর চপ, বেগুনি, পেয়াজু, ছোলা, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ আর সরিষার তেল মিশিয়ে ঝাল-ঝাল মুড়ি মাখা যেন ইফতারের অপরিহার্য অংশ।

তবে এই মুড়ি মাখায় জিলাপি মেশানো হবে কি না—তা নিয়ে প্রতি রমজানেই তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। সম্প্রতি এই আলোচনা ডাইনিং টেবিল ছাড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে। ফেসবুকে ‘মুড়িতে জিলাপি, পক্ষ/বিপক্ষ’ ইস্যুতে খোলা হয়েছে একাধিক ইভেন্ট। এর মধ্যে ‘মুড়ি মাখাতে জিলাপি বন্ধ কর্মসূচি’ ও ‘ইফতারে মুড়িতে জিলাপি মাখার পক্ষে বিপক্ষে মারামারি চাই’ শিরোনামের ইভেন্টগুলো বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মুড়ি একটি শতাব্দীপ্রাচীন খাবার। চাল থেকে তৈরি হওয়ায় এটি হালকা ও সহজপাচ্য, তাই নাশতা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয়। ইফতারে সাধারণত সরিষার তেল, পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, আলুর চপ, বেগুনি, পেয়াজু ও ছোলা মিশিয়ে মুড়ি মাখানো হয়।

অপরদিকে, জিলাপির ইতিহাস আরও পুরোনো। মোঘল আমলে পারস্যের ব্যবসায়ীদের হাত ধরে উপমহাদেশে আসে এই ডুবো তেলে ভাজা মিষ্টান্ন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি ইফতারের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

ঝাল, টক আর মিষ্টির সংমিশ্রণ—এটাই কি স্বাদের পূর্ণতা, নাকি আলাদা আলাদা স্বাদই থাকা উচিত? মুড়ি আর জিলাপির এই বিতর্কের হয়তো শেষ নেই। তবে মতভেদ যাই থাকুক, রমজানের ইফতার টেবিল থাকুক আনন্দ আর মিলনের উচ্ছ্বাসে ভরপুর।

পুষ্টিবিদ কী বলছেন

রুচির ভিন্নতা থাকবেই—কেউ ঝাল-মিষ্টির মিশ্রণ পছন্দ করেন, কেউ একেবারেই না। আবার সবার হজমক্ষমতাও এক নয়। তবে ছোলা-মুড়ির সঙ্গে জিলাপি মিশিয়ে খাওয়া আসলে কতটা স্বাস্থ্যসম্মত?

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফরাজী হাসপাতাল–এর পুষ্টিবিদ নাহিদা আহমেদ বলেন, মুড়িতে রয়েছে ভিটামিন বি ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান, যা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। এতে পর্যাপ্ত শর্করা থাকায় দ্রুত শক্তি জোগায় এবং পেট ভরা অনুভূতি দেয়। পরিমিত পরিমাণে খেলে এটি ওজন নিয়ন্ত্রণ ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি আরও জানান, ছোলা মূলত ডালজাতীয় ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার। ছোলা ও মুড়ি আলাদাভাবে কিংবা একসঙ্গে খেলে তা পুষ্টিকরই। তবে সমস্যাটা তৈরি হয় যখন এর সঙ্গে অতিরিক্ত তেলে ভাজা চপ, বেগুনি বা জিলাপির মতো মিষ্টান্ন যোগ করা হয়।

নাহিদা আহমেদের ভাষ্য, মুখরোচক হলেও ঝাল খাবারের সঙ্গে অতিরিক্ত মিষ্টি—বিশেষ করে জিলাপি—খেলে অ্যাসিডিটি, গ্যাস্ট্রিকসহ হজমজনিত নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই স্বাদ আর স্বাস্থ্যের মধ্যে ভারসাম্য রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Link copied!