বৈশাখের তীব্র দাবদাহে জনজীবন ওষ্ঠাগত। পিচগলা রোদ আর ভ্যাপসা গরমে এক ফোঁটা স্বস্তির খোঁজে মানুষ যখন দিশেহারা, তখন রাস্তার মোড়ে মোড়ে বা ঘরের টেবিলে এক গ্লাস বেলের শরবত হতে পারে পরম পাওয়া। কেবল তৃষ্ণা মেটাতেই নয়, যুগ যুগ ধরে বাঙালির গরমে টিকে থাকার অন্যতম ‘ম্যাজিক ড্রিঙ্ক’ হিসেবে পরিচিত এই বেলের শরবত।
বেলকে বলা হয় ফলের রাজা, বিশেষ করে পেটের যাবতীয় সমস্যার সমাধানে এর জুড়ি মেলা ভার। পুষ্টিবিদদের মতে, প্রতি ১০০ গ্রাম বেলে থাকে প্রায় ১৪০ ক্যালোরি শক্তি, প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি, ক্যালসিয়াম এবং আয়রন।
গরমে বেলের শরবতের কিছু উল্লেখযোগ্য উপকারিতা নিচে তুলে ধরা হলো:
প্রাকৃতিক কুল্যান্ট: বেল শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে, যা হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।
হজম ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর: বেলে থাকা প্রচুর পরিমাণে ল্যাক্সেটিভ ও ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং হজম প্রক্রিয়াকে সচল রাখে।
পানিশূন্যতা রোধ: তীব্র গরমে শরীর থেকে যে পরিমাণ পানি ও খনিজ লবণ বের হয়ে যায়, বেলের শরবত তা দ্রুত পূরণ করতে সক্ষম।
এনার্জি বুস্টার: দীর্ঘক্ষণ রোদে কাজ করার পর বেলের শরবতে থাকা প্রাকৃতিক শর্করা তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায়।
ঘরে বসেই স্বাস্থ্যকর বেলের শরবত (রেসিপি)
বাজারের খোলা জায়গার শরবতে অনেক সময় বিশুদ্ধ পানির অভাব থাকে। তাই স্বাস্থ্য সচেতনদের পছন্দ ঘরে তৈরি শরবত।
উপকরণ:
পাকা বেল - ১টি
ঠান্ডা পানি - পরিমাণমতো
চিনি বা গুড় - স্বাদমতো (ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এড়িয়ে চলাই ভালো)
সামান্য বিট লবণ ও লেবুর রস (স্বাদ বাড়াতে)
প্রস্তুত প্রণালী:
প্রথমে বেল ফেটে এর ভেতরের অংশ বের করে নিন। এরপর পানিতে ভিজিয়ে রেখে ভালো করে চটকে নিয়ে ছাঁকনি দিয়ে বীজ ও আঁশ আলাদা করে ফেলুন। এবার চিনি বা গুড় এবং সামান্য বিট লবণ মিশিয়ে নিলেই তৈরি প্রাণ জুড়ানো বেলের শরবত।
পুষ্টিবিদের পরামর্শ
“গরমে কোমল পানীয় বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় শরীরের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করতে পারে। তার বদলে বেলের শরবতের মতো প্রাকৃতিক পানীয় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং পাকস্থলীকে শান্ত রাখে।”
তীব্র গরমে সুস্থ থাকতে কৃত্রিম পানীয় বর্জন করে দেশি ফলের শরবতে ভরসা রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। এক গ্লাস বেলের শরবত শুধু তৃষ্ণাই মেটাবে না, আপনাকে রাখবে সতেজ ও প্রাণবন্ত।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন