ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদির গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রাতভর আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ শুক্রবার সকালেও অব্যাহত রয়েছে।
শুক্রবার সকাল ৭টার পর শাহবাগ মোড়ে সরেজমিন দেখা যায়, অবরোধের কারণে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগানে মুখর করে তুলেছে পুরো এলাকা। রাতের তুলনায় ভোরে লোকসংখ্যা কিছুটা কম থাকলেও দিনের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষের ঢল নামতে শুরু করেছে।
বিক্ষোভকারীরা ‘জ্বালো জ্বালো, আগুন জ্বালো’, ‘রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায়’, ‘গোলামি না আজাদি, আজাদি-আজাদি’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা-ঢাকা’, ‘ভারতের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’ এবং ‘আমরা সবাই হাদি হবো, যুগে যুগে লড়ে যাবো’—এমন নানা স্লোগান দিচ্ছেন।
সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শাহবাগে গিয়ে দেখা যায়, রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মিছিল ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে মানুষ সমবেত হচ্ছেন। হাতে জাতীয় পতাকা নিয়ে ‘ফ্যাসিবাদের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘আওয়ামী লীগের আস্তানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘হাদি ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দেব না’—এসব স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে শাহবাগ চত্বর।
শনিরআখড়া থেকে আসা মাদ্রাসাশিক্ষার্থী আশফাকুর রহমান বলেন, ‘আমরা একজন সাচ্চা দেশপ্রেমিককে হারিয়েছি। সারারাত ঘুমাতে পারিনি। প্রতিবাদ জানাতেই ভোরে এখানে চলে এসেছি। ওসমান হাদির মতো সাহসী মানুষকে হারিয়ে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।’
রামপুরা থেকে আসা ইমরুল কায়েস বলেন, ‘হাদির মৃত্যু পুরো দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা এই শোককে শক্তিতে রূপান্তর করব। বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না।’
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত পৌনে ১০টার দিকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। ছাত্র-জনতা সড়কে নেমে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানায়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক শরিফ ওসমান হাদি গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগকালে চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় আততায়ীর গুলিতে গুরুতর আহত হন। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রথমে ঢাকায় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার রাতে তিনি মারা যান।
হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে থমথমে ও উত্তাল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে জনমনে উদ্বেগের পাশাপাশি ক্ষোভও বাড়ছে।

