কিছু উগ্র ডানপন্থি গোষ্ঠী ধ্বংসাত্মক ও নৈরাজ্যকর রাজনীতির মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের জনগণকে ফাঁদে পা না দেওয়ার জন্য সতর্ক করে মাহফুজ বলেন,‘বাংলাদেশের জনগণকে সতর্ক করছি-ফাঁদে পা দেবেন না। কিছু উগ্র ডানপন্থি গোষ্ঠী ধ্বংসাত্মক ও নৈরাজ্যকর রাজনীতির মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাচ্ছে। পুরোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত, সহিংস ঐতিহ্য এবং ব্যর্থ রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে স্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণে আমি সকল দেশপ্রেমিক ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে আহ্বান জানাই।’
সাম্প্রতিক হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি কূটনৈতিক স্থাপনা-সহ অন্যান্য সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এবং দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো কার্যালয়ে বর্বর হামলার দ্ব্যর্থহীন ও তীব্র নিন্দা জানাই। একই সঙ্গে আমাদের সম্মানিত সহযোদ্ধা নূরুল কবিরসহ গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বরকে লক্ষ্য করে চালানো হামলা ও উসকানিরও নিন্দা জানাই।’
পোস্টে তিনি শহীদ মিনারে দেওয়া নিজের একটি বক্তব্যের ব্যাখ্যাও দেন। এ বিষয়ে মাহফুজ আলম বলেন, ‘দুঃখজনক হলো, শহীদ মিনারে করা আমার একটি মন্তব্যের প্রকৃত উদ্দেশ্য তুলে না ধরে তা ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। অন্তত এটুকু বলতে পারি, সেই বক্তব্যটি ছিল অনুভূতির স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশ এবং রূপক অর্থেই তা বলা হয়েছিল। আমার সেই দিনের বক্তব্যে মর্মাহত হওয়া প্রতিটি সচেতন নাগরিকের কাছে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।’
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেন, ‘জুলাই মাসের শুরু থেকে আমি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ, পুনর্গঠন, আইনের শাসন এবং সহাবস্থানের রাজনীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছি। জুলাই বা দেশপ্রেমের নামে সহিংসতা ও নৈরাজ্যকর যেকোনো প্রচেষ্টাকে আমি স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করি। এই ধরনের কাজকে আমি কখনো বৈধতা দেব না কিংবা এসবের কাছে নতি স্বীকারও করব না।’
ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে পথ পরিষ্কার। আমরা বিশৃঙ্খলা নয়-অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক রূপান্তর, প্রতিরোধ ও পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে শহীদ ওসমান হাদির চেতনাকে সম্মান জানাব।’
পোস্টের শেষে তিনি সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গত সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) জুলাই আন্দোলনকারীদের ওপর কোনো আক্রমণ হলে এবার পাল্টা আক্রমণে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মাহফুজ আলম। তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের গায়ে হাত দেওয়া যাবে না। একটা লাশ পড়লে আমরা কিন্তু লাশ নেব। অত সুশীলতা করে লাভ নেই। কারণ, অনেক ধৈর্য ধরা হয়েছে।’


