ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

পাঁচ মাসে রাজস্ব ঘাটতি ২৪ হাজার কোটি টাকা

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২১, ২০২৫, ১০:৫৭ পিএম
ছবি- সংগৃহীত

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর রাজস্ব আহরণ লক্ষ্য পূরণ করতে পারছে না। দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও আর্ন্তজাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চাপের মধ্যে রাজস্ব আহরণে ধস নেমেছে, যা আগামী অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

এনবিআরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ৪৭ কোটি টাকা। রাজস্ব ঘাটতির অর্ধেক আসে আয়কর খাত থেকে। আয়কর ও শুল্ক-কর খাতের ঘাটতি বেশি হওয়ায় দেশের রাজস্ব ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আয়কর ও ভ্রমণ কর খাতে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আদায় কম হয়েছে।

রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য ছিল ১ লাখ ৭৩ হাজার ২৩ কোটি টাকা। তবে আদায় হয়েছে মাত্র ১ লাখ ৪৮ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা। এর ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ৪৭ কোটি টাকায়। এনবিআরের তিনটি প্রধান খাতের মধ্যে আয়কর ও শুল্ক খাত সবচেয়ে পিছিয়ে। আয়কর খাতের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৯ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকা, তবে আদায় হয়েছে ৪৭ হাজার ৮৮১ কোটি টাকা। অর্থাৎ আয়কর খাতে ঘাটতি ১২ হাজার ১১৪ কোটি টাকা, যদিও প্রবৃদ্ধি ১৫.১৫ শতাংশ।

শুল্ক খাতেও পরিস্থিতি গুরুতর। শুল্কের লক্ষ্য ছিল ৫০ হাজার ৯৭৯ কোটি টাকা, আদায় হয়েছে ৪২ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা। শুল্ক খাতে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ১১৫ কোটি টাকা, এবং প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫.২৮ শতাংশ।

ভ্যাট খাতের ক্ষেত্রে কিছুটা আশার আলো দেখা গেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে ভ্যাটের লক্ষ্য ছিল ৬২ হাজার ৪৮ কোটি টাকা, আদায় হয়েছে ৫৮ হাজার ২৩১ কোটি টাকা। এর ফলে ভ্যাট খাতে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮১৭ কোটি টাকা, তবে প্রবৃদ্ধি ২১.৯৭ শতাংশ। এনবিআর কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভ্যাটের সিংহভাগ আসে সাধারণ ভোক্তা থেকে। পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি থাকায় ভ্যাট আদায় কিছুটা বেড়েছে, যা স্বাভাবিক।

তবে আয়কর ও শুল্ক খাতের রাজস্ব আহরণ এখনো নাজুক। দেশের অর্থনীতিতে শিল্পায়ন ও বিদেশি বিনিয়োগে ধীরগতি, সরকারের অভ্যন্তরীণ সমস্যা, এবং নীতি বাস্তবায়নের জটিলতা মিলিতভাবে রাজস্ব আহরণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এনবিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, রাজস্ব বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে ভ্যাটের মতো নতুন উদ্যোগ প্রয়োজন, এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সমন্বিত নীতি গ্রহণ অত্যাবশ্যক।

রাজস্ব ঘাটতি দেশের বাজেট পরিচালনা ও বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আয়কর ও শুল্ক খাতের ঘাটতি নিয়ন্ত্রণ না করা হলে সরকারের সামাজিক, অবকাঠামোগত ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পের জন্য অর্থের জোগান কমে যাবে।

অর্থাৎ, চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসের রাজস্ব বিশ্লেষণ থেকে দেখা যাচ্ছে, এনবিআরের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে আয়কর ও শুল্ক-কর আদায় বাড়ানো, এবং ভ্যাটের মতো সহজলভ্য ও নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে ঘাটতি পূরণ করা।