বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের শপথ গ্রহণ ও প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ আজ বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার এন্ড কলেজে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, সিনিয়র সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মহাপরিচালক, বিজিবি, কমান্ড্যান্ট, বিজিবি ট্রেনিং সেন্টার ও কলেজ, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এবং সম্মানিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদবীরদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তিনি স্মরণ করেন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বীর শহীদদের এবং সাম্প্রতিক ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত অভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের।
তিনি বলেন, ‘আজকের এই অনুষ্ঠান শুধু নবীন সৈনিকদের প্রশিক্ষণ সমাপ্তির উদযাপন নয়, এটি আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকারেরও এক প্রতিফলন।’
উক্ত অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচে মোট ৩০২৩ জন নবীন সৈনিককে (পুরুষ ২৯৫০ জন, নারী ৭৩ জন) প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এটি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নজির, কারণ স্বাধীনতা উত্তর সময়ে কোনও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে একসঙ্গে এত সংখ্যক রিক্রুটকে প্রশিক্ষণ প্রদানের উদাহরণ ছিল না।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, নবীন সৈনিকদের প্রশিক্ষণের জন্য নতুন প্রশিক্ষণ মাঠ নির্মাণ, আবাসন ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ ছাউনী, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, মেডিকেল সাপোর্ট, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, লজিস্টিকস ও প্রশিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল।
তিনি নবীন সৈনিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, শৃঙ্খলা, সততা, বুদ্ধিমত্তা, নির্ভরযোগ্যতা, আনুগত্য এবং তেজ ও উদ্দীপনা একজন সৈনিকের প্রধান বৈশিষ্ট্য। “সীমানা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তোমাদের সততা, নিষ্ঠা ও পেশাগত দক্ষতার উপরই নির্ভর করবে বিজিবির ভাবমূর্তি ও গৌরব,” তিনি যোগ করেন।
বিশেষভাবে নবীন নারী সৈনিকদের প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নারীরাও দেশের সীমান্ত রক্ষা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সমান ভূমিকা রাখছে। তিনি বলেন, “নবীন নারী সৈনিকদের যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততা বিজিবির সার্বিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এবং বাহিনীর সুনাম বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।”
এছাড়া তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবি সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরেন। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন সফল, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখরভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিজিবির ৩৭,৪৫৩ জন সদস্য ৬১টি উপজেলায় দায়িত্ব পালন করবে। তিনি সকল সদস্যকে নির্দেশনা দেন যে, কোনও ধরনের পক্ষপাতমূলক বা দায়িত্ববহির্ভূত কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে হবে এবং দেশের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সততা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে হবে।
দুর্নীতির বিষয়েও তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু। এটি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি করে না, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ভেতর থেকে ক্ষয় করে এবং জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ণ করে। বিজিবির কোনো সদস্য কোনো ব্যক্তিস্বার্থ, রাজনৈতিক সুবিধা বা পক্ষপাতমূলক এজেন্ডার অংশ হতে পারবে না।’
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার এন্ড কলেজের প্রশিক্ষক ও প্রশাসনিক সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রমের প্রশংসা করে নবীন সৈনিকদের কর্মজীবনের সাফল্য কামনা করেন। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদেরও ধন্যবাদ জানান।
সমাপনী কুচকাওয়াজে নবীন সৈনিকরা তাদের প্রশিক্ষণ সমাপ্তির প্রতীকী প্রদর্শনী দেন। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত দক্ষতা ও শৃঙ্খলার চমক দেখেন, যা বাংলাদেশের সীমান্ত সুরক্ষা ও নিরাপত্তায় নতুন শক্তি যোগ করবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন