ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬-কে সামনে রেখে নাগরিকদের জন্য নির্ভরযোগ্য, সময়োপযোগী ও সহজলভ্য তথ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় হেল্পলাইন-৩৩৩ কর্তৃপক্ষ।
এরই অংশ হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের আইসিটি টাওয়ারে তথ্য ও সেবা প্রদান কার্যক্রম বিষয়ক একটি কর্মশালার আয়োজন করেছে এটুআই। এই উদ্যোগের ফলে খুব শিগগিরই নাগরিকরা জাতীয় হেল্পলাইন-৩৩৩ নম্বরে কল করে আইভিআর মেনুতে ৯ চেপে নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য ও সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
এই সেবার আওতায় ভোটাররা তাদের ব্যক্তিগত ভোটার তথ্য, ভোট প্রদানের নিয়ম ও পদ্ধতি, ভোটকেন্দ্রের অবস্থান ও তা খোঁজার উপায়, প্রার্থী ও তাদের পক্ষে প্রচারণায় অংশগ্রহণকারীদের আচরণবিধি, প্রবাসী ভোটারদের ভোট প্রদান সংক্রান্ত তথ্য, প্রতিবন্ধী, প্রবীণ ও নারী ভোটারদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও সেবা, কোনো এলাকায় জরুরি অবস্থা বা বিশেষ নির্দেশনা জারি আছে কি না—এসবসহ জরুরি সহায়তা ও প্রয়োজনীয় যোগাযোগ নম্বর সম্পর্কে জানতে পারবেন। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত অ্যাপ ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ এবং ‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি’ সম্পর্কেও তথ্য প্রদান এই সেবার অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
কর্মশালায় বক্তব্য দেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ, এটুআই-এর প্রকল্প পরিচালক মোহা. আব্দুর রফিক, এটুআই-এর যুগ্ম প্রকল্প পরিচালক মো. রশিদুল মান্নাফ কবীর, ইসি’র যুগ্মসচিব মো. আব্দুল হালিম খান এবং এটুআই-এর হেড অব প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট আব্দুল্লাহ আল ফাহিম। এ ছাড়াও কর্মশালায় ইসি ও এটুআই-এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জাতীয় হেল্পলাইন ৩৩৩-এর এজেন্টদের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।
নির্বাচনকালীন তথ্যসেবার গুরুত্ব তুলে ধরে কে এম আলী নেওয়াজ বলেন, ‘নির্বাচন ও গণভোটের সময় নাগরিকদের জিজ্ঞাসা সাধারণত সময়নির্ভর, প্রেক্ষাপটভিত্তিক এবং সংবেদনশীল হয়ে থাকে। তাই শুধু তথ্য থাকলেই যথেষ্ট নয়, যাচাইকৃত উৎসের ভিত্তিতে একই মানদণ্ডে নির্ভুল ও হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপনের সক্ষমতা এজেন্টদের থাকতে হবে। ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য নাগরিকদের আস্থা ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে ইসি ও জাতীয় হেল্পলাইন ৩৩৩-এর দায়িত্ব স্পষ্ট রেখে সমন্বিতভাবে কাজ করা অত্যন্ত জরুরি।’
এটুআই-এর প্রকল্প পরিচালক মোহা. আব্দুর রফিক বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো নাগরিকদের কাছে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়া। নির্বাচনকালীন সময়ে ভোটার তালিকা, ভোটদানের পদ্ধতি, ভোটকেন্দ্রের অবস্থান, আচরণবিধি, বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত প্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য প্রযোজ্য ব্যবস্থা এবং জরুরি পরিস্থিতি সংক্রান্ত তথ্য জানার প্রয়োজন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। সঠিক তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করা না গেলে বিভ্রান্তি, গুজব বা ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় হেল্পলাইন-৩৩৩ নাগরিকবান্ধব তথ্যসেবা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।’
অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে এটুআই-এর যুগ্ম প্রকল্প পরিচালক মো. রশিদুল মান্নাফ কবীর বলেন, ‘নির্বাচনকালীন তথ্যসেবা প্রদান করতে হলে শুধু তথ্য জানাই যথেষ্ট নয়, এজেন্টদের বাস্তবভিত্তিক প্রস্তুতি, তথ্য যাচাইয়ের দক্ষতা, হালনাগাদ তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিক যোগাযোগ কৌশলে পারদর্শিতা থাকা অত্যাবশ্যক।’
কর্মশালায় ইসি’র যুগ্মসচিব মো. আব্দুল হালিম খান নির্বাচন ও গণভোট সংক্রান্ত করণীয় ও বর্জনীয়, আচরণবিধি এবং নাগরিকদের সাধারণ প্রশ্নের ক্ষেত্রে সহজ ও বোধগম্য ভাষায় সঠিক উত্তর প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। এ ছাড়া এটুআই-এর হেড অব প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট আব্দুল্লাহ আল ফাহিম বলেন, ‘এই কর্মশালার মাধ্যমে ৩৩৩-এর এজেন্ট ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নির্বাচন ও ভোটসংক্রান্ত তথ্যসেবা আরও দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে প্রদান করতে সক্ষম হবেন, এর ফলে নাগরিকদের মধ্যে নির্বাচন বিষয়ে সচেতনতা বাড়বে এবং বিভ্রান্তি ও ভুল তথ্যের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।’


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন