মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা, বীর প্রতীক ফারুক ই আজম বলেছেন, রাষ্ট্র ও সরকারের মালিকানা জনগণের হাতে তুলে দেওয়ার জন্যই গণভোট আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, গণভোট ছাড়া বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে সিলেটের লাক্কাতুরা গলফ ক্লাব মাঠে জেলা তথ্য অফিসের আয়োজন করা উঠান বৈঠকে ফারুক ই আজম এসব কথা বলেন। বৈঠকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
ফারুক ই আজম বলেন, গণভোটের ইতিবাচক ফলাফলই নির্ধারণ করবে আগামীর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। দেশের উন্নয়নের জন্য প্রত্যেক নাগরিককে অবশ্যই এতে অংশ নিতে হবে।
উপদেষ্টা বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান দায়িত্ব ছিল গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা, রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার করা এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যেই গণহত্যার বিচার শুরু করেছে এবং অনেকের সাজা কার্যকর হয়েছে। রাষ্ট্রকে আগের ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থায় ফিরতে না দেওয়ার জন্য সকল দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই সনদের কিছু মূল বিষয় নিয়েই এবার গণভোটের আয়োজন করা হচ্ছে। নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার তার দায়িত্ব পূর্ণ করবে।
প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া নাগরিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনারা প্রথম ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রের মৌলিক পরিবর্তনের অংশ হবেন। এটি শুধু আপনার অধিকার নয়, দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বিচার ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। আপনার সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।’
ফারুক ই আজম বলেন, দেশের মানুষকে একটি সচ্ছল, সাবলীল এবং মানবিকবোধসম্পন্ন নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য রাখতে হবে।
তিনি বলেন, সেই বাংলাদেশে ছাত্র-জনতা জীবন দিয়েছে এবং সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি সরকারের প্রচেষ্টা তুলে ধরে বলেন, জনগণকে রাষ্ট্রের সার্বিক মালিকানা বোঝাতে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার মাধ্যমে জনমত তৈরি করা হচ্ছে।
এ সময় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেন, যদি জনগণ নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন না হয়, তবে কোনো সরকারই মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারবে না। ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য সচেতনতার সঙ্গে ভালো প্রার্থী নির্বাচিত করতে হবে। আর ভালো প্রার্থী তৈরি হবে শক্তিশালী ও সুসংহত রাষ্ট্র কাঠামোর মাধ্যমে। গণভোট ছাড়া বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়।
বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য সচিব মো. সাইদুর রহমান, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, সিভিল সার্জন মো. নাসির উদ্দিন এবং গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের পরিচালক মীর মো. আসলাম উদ্দীন। এ ছাড়া সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াৎ, জেলা তথ্য অফিসের সহকারী পরিচালক রাকিব হাসান, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) সিলেট ব্যুরো প্রধান সেলিম আউয়ালসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন