২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য দেশের সব স্তরে বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও সরবরাহের কাজ প্রায় সম্পূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাধ্যমিক (৬ষ্ঠ-৯ম শ্রেণি) এবং মাদ্রাসার ইবতেদায়ি স্তর মিলিয়ে পাঠ্যবই মুদ্রণের অগ্রগতি ৯৮.৭৬ শতাংশে পৌঁছেছে। দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বই সরবরাহের গড় হারও ৯৫.৪৭ শতাংশ ছাড়িয়েছে।
ইবতেদায়ি স্তরে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সব বই ইতোমধ্যেই শিক্ষার্থীদের জন্য বিতরণের জন্য প্রস্তুত। এনসিটিবির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী জানান, ১৭ জানুয়ারি রাত ৮টা পর্যন্ত ইবতেদায়ি স্তরের মুদ্রণ ও সরবরাহ সম্পূর্ণ হয়েছে।
মাধ্যমিক স্তরেও প্রায় ৯৮.৬২ শতাংশ বই মুদ্রণ শেষ হয়েছে এবং রবিবার বিকেল পর্যন্ত এটি ৯৯ শতাংশে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, বাকি সামান্য বইয়ের মুদ্রণ ও বাঁধাই কাজও আগামী কয়েক দিনের মধ্যে শেষ হবে। মাঠ পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা দপ্তরগুলোতে বই বিতরণের কাজ জোরদার করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা খুব দ্রুতই তাদের পাঠ্যপুস্তক হাতে পায়।
ইবতেদায়ি স্তরে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৩ কোটি ১১ লাখ ৯ হাজার ৩৪৭টি বই মুদ্রণ ও বাঁধাই সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি শ্রেণির বইয়ের সংখ্যা যথাক্রমে প্রথম শ্রেণি ৫৪ লাখ ৩৪ হাজার ৭৫৫টি, দ্বিতীয় শ্রেণি ৫২ লাখ ৩ হাজার ১৭২টি, তৃতীয় শ্রেণি ৬৭ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬৮টি, চতুর্থ শ্রেণি ৬৮ লাখ ৯৮ হাজার ৭৭৬টি এবং পঞ্চম শ্রেণি ৬৮ লাখ ২৩ হাজার ৭৬টি। এসব বই ৩৫টি প্রেসে মুদ্রণ করা হয়েছে, যা মোট ৪১ কোটি ৮২ লাখ ৪২ হাজার ৮৮২ ফর্মার সমপরিমাণ।
মাধ্যমিক স্তরের বইও শেষ পর্যায়ে। ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণির বই মুদ্রণের অগ্রগতি ৯৮.৬২ শতাংশ। শ্রেণি অনুযায়ী ৬ষ্ঠ শ্রেণির বই মুদ্রণ শেষ হয়েছে ৯৯.৪৮ শতাংশ, ৭ম শ্রেণিতে ৯৭.৩০ শতাংশ, ৮ম শ্রেণিতে ৯৭.১৫ শতাংশ এবং ৯ম শ্রেণিতে ৯৯.৫৮ শতাংশ। মাধ্যমিক স্তরে মোট ১৮ কোটি ৩২ লাখ ৪ হাজার ৯২৭টি বইয়ের মধ্যে ইতোমধ্যেই ১৭ কোটি ৯৬ লাখ ৬ হাজার ৮৫৫টি বই মুদ্রণ সম্পন্ন হয়েছে। বাঁধাই কাজও প্রায় শেষ এবং প্রি-ডেলিভারি ইন্সপেকশন (পিডিআই) হয়েছে ৯৫.০৫ শতাংশ বইয়ে।
এ পর্যন্ত মাধ্যমিক স্তরের মোট ১৭ কোটি ৩৪ লাখ ৮৮ হাজার ৩১১টি বই সরবরাহ করা হয়েছে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৫.৩০ শতাংশ বই এখনও বিতরণের অপেক্ষায় রয়েছে। এনসিটিবি সচিব প্রফেসর মো. সাহতাব উদ্দিন জানান, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও পরিবহন ব্যবস্থা স্থিতিশীল থাকলে ২২ জানুয়ারির মধ্যে অবশিষ্ট সব বই বিতরণ শেষ হবে। তিনি আরও বলেন, বই মুদ্রণ ও বাঁধাইয়ের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং উপজেলা পর্যায়ে বই বিতরণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
চেয়ারম্যান ও সচিব উভয়েই শিক্ষার্থীদের হাতে বই দ্রুত পৌঁছানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন। তাদের আশা, শিক্ষার্থীরা নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই প্রয়োজনীয় পাঠ্যপুস্তক হাতে পাবে এবং শিক্ষাজীবনে কোনও বাধা সৃষ্টি হবে না।


