পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ঢাকার বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ পুরোনো বাস ও নির্মাণসামগ্রী। তবে শহরের বিদ্যমান ২৮ হাজার পুরোনো বাস মাত্র দেড় বছরের মধ্যে সরানো সম্ভব নয়। এই সমস্যা সমাধানে সরকার ইতোমধ্যেই একনেক সভায় ইলেকট্রিক বাস অনুমোদনের প্রস্তাব দিয়েছে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরে আয়োজিত ‘নির্বাচন ম্যানুফেস্টো টক’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব তথ্য জানান।
রিজওয়ানা হাসান জানান, ঢাকার বায়ুদূষণের ১৩ শতাংশ আসে ইটভাটা ও নির্মাণসামগ্রী থেকে, আর ৬ শতাংশ আসে পুরোনো বাস থেকে। তিনি বলেন, বর্তমানে ঢাকায় এমন বাস খুঁজে পাওয়া দুষ্কর, যা কালো ধোঁয়া ছাড়ে না। পরিবেশ রক্ষায় আমরা সমাধানের প্রক্রিয়া শুরু করেছি। পরবর্তী সরকার এটি চালু রাখবে কি না সেটিই এখন মূল বিষয়।
বিগত সরকারের পরিবেশ নীতি নিয়ে তিনি সমালোচনা করে বলেন, আগে পরিবেশকে কখনো প্রাধান্য দেওয়া হয়নি; এমনকি গুরুত্বের দিক থেকে পরিবেশ অধিদপ্তর শেষ ১০টি প্রতিষ্ঠানের তালিকায় ছিল। তবে বর্তমান সরকারের পদক্ষেপের কারণে ২০২৫ সালে ঢাকা বায়ুদূষণে শীর্ষে থাকার হার ২০২৪ সালের তুলনায় কমেছে।
রিজওয়ানা হাসান আশা প্রকাশ করেন, সাভারের ইটভাটা বন্ধ রাখা এবং নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখলে আগামী তিন বছরের মধ্যে ঢাকা দূষণের শীর্ষ অবস্থান থেকে সরে আসবে। তিনি বেইজিংয়ের উদাহরণ টেনে জনসম্পৃক্ততার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণের সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাত্র ৪-৬ জন ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে শব্দ দূষণ রোধ করা সম্ভব নয়। তাই সংশোধিত বিধিমালায় পুলিশকে শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণের নতুন দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বন ও নদী রক্ষা বিষয়ে রিজওয়ানা বলেন, শালবন, চুনোতি অভয়ারণ্য ও সোনাদিয়াকে দখলমুক্ত করা হচ্ছে। সোনাদিয়াতে ইকো-পার্কের নামে নেওয়া ২০ হাজার একর বনভূমি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকার চারপাশের নদী (বুড়িগঙ্গা ব্যতীত) ও ২০টি খাল রক্ষার জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, যা অনুমোদন হলে প্রায় ৭৫০টি দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে। তিস্তা নদী রক্ষার প্রকল্প চীন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।
পলিথিন বর্জন বিষয়ে জনগণের সচেতনতা কামনা করে তিনি বলেন, ‘সবাই বাজার থেকে পলিথিন নিয়ে বাসায় ফিরবেন আর বলবেন পলিথিন বন্ধ হয়নি, এটা তো হতে পারে না।’
তিনি আরও জানান, আটটি বিভাগীয় শহরের আটটি নদীকে দখল ও দূষণমুক্ত করার কাজ চলছে। এর মধ্যে ছয়টি প্রকল্পের অনুমোদন হয়েছে এবং বাকি দুটির অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছে।
পরবর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রিজওয়ানা হাসান বলেন, প্রাকৃতিক বনগুলো ফিরিয়ে আনতে হবে। বায়ু ও শব্দ দূষণ রোধ, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ অব্যাহত রাখতে হবে। পরিবেশ ও প্রকৃতিকে প্রাধান্য দিলে প্রকৃত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন