ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

মুক্তিযোদ্ধাদের ৫ হাজার টাকা ভাতা বাড়ানো হয়েছে

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৫, ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম
ছবি- সংগৃহীত

মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানি ভাতা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় দেওয়া ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ৩২তম সভায় এ সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমদ। সভায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতাভুক্ত ১৫টি কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা ও ভাতার হার নতুন করে নির্ধারণ করা হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মাসিক ভাতা ৫ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের সম্মানি ভাতা এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ভিজিএফ কার্যক্রমকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়। আগামী অর্থবছরে নতুন করে ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৪ জন জেলেকে অন্তর্ভুক্ত করে মোট ১৫ লাখ জেলেকে ভিজিএফ সুবিধার আওতায় আনার প্রস্তাবও অনুমোদন পায়।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বয়স্ক ভাতা কর্মসূচিতে উপকারভোগীর সংখ্যা এক লাখ বাড়িয়ে ৬২ লাখ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০ লাখ প্রবীণ মাসিক ৭০০ টাকা হারে ভাতা পাবেন, যা আগে ছিল ৬৫০ টাকা। এ ছাড়া ৯০ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সি ২ লাখ ৫ হাজার প্রবীণকে মাসিক ১ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারীদের ভাতা কর্মসূচিতেও পরিবর্তন এসেছে। এ কর্মসূচির আওতাভুক্ত প্রায় ২৯ লাখ নারীর মধ্যে অধিকাংশই এখন মাসিক ৭০০ টাকা ভাতা পাবেন। পাশাপাশি ৯০ বছর ঊর্ধ্ব ২৫ হাজার নারী মাসিক ১ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।

প্রতিবন্ধী ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রমেও বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রায় ৩৬ লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মধ্যে অধিকাংশ মাসিক ৯০০ টাকা এবং একটি অংশ ১ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বৃত্তির হার সব স্তরেই ৫০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে।

অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচিতে উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে ২ লাখ ২৮ হাজারের বেশি করা হয়েছে এবং মাসিক ভাতা ৭০০ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও মেধাবৃত্তির সুবিধাভোগীর সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া এ জনগোষ্ঠীর ৫ হাজারের বেশি মানুষকে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

গুরুতর রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচিতে উপকারভোগীর সংখ্যা ৫ হাজার বাড়িয়ে ৬৫ হাজার করা হয়েছে। ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকজনিত পক্ষাঘাত, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের এককালীন চিকিৎসা সহায়তার পরিমাণ বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচিতেও সুবিধাভোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। নতুন করে ১ লাখ ২৪ হাজার মা যুক্ত হয়ে মোট উপকারভোগীর সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ১৯ লাখে। এ কর্মসূচিতে একজন মা মাসিক ৮৫০ টাকা করে সহায়তা পান।

এ ছাড়া খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে সুবিধাভোগী পরিবারের সংখ্যা ৫ লাখ বাড়িয়ে ৬০ লাখে উন্নীত করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত পরিবারগুলো স্বল্পমূল্যে ছয় মাস ধরে খাদ্য সহায়তা পাবে।

সরকারের এ সিদ্ধান্তগুলো সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।