র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ১০০টি জিপ গাড়ি ক্রয়ের অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন বিদ্যুৎ,জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
ফাওজুল কবির খান জানান, সভায় রমজান উপলক্ষে ১০ হাজার টন মসুর ডাল ও ১ কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল কেনার অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। এছাড়া র্যাবের জন্য ১০০টি জিপ গাড়ি এবং ৪০ হাজার টন ইউরিয়া সার ক্রয় করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ভবিষ্যতে দেশেই সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের উদ্যোগ নেবে এবং এজন্য চট্টগ্রামে ডিফেন্স ইকোনমিক জোনে জমি বরাদ্দ করা হয়েছে।
ফাওজুল কবির বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মচারীদের পক্ষ থেকে পে-কমিশনের দাবি ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় একটি স্বাধীন পে-কমিশন প্রতিবেদন দিয়েছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ মাত্র সীমিত সময়ের হওয়ায় এই সরকার পে-স্কেল বাস্তবায়নে যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, পে-কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সুপারিশগুলো পরীক্ষা–নিরীক্ষার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা আর্থিক সক্ষমতা, মূল্যস্ফীতি ও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের বিষয়গুলো বিবেচনা করে মতামত দেবে।
পরবর্তী সরকার চাইলেই কি এ সুপারিশ বাতিল করতে পারবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, পরবর্তী সরকার যেকোনো কিছু করতে পারে। এ সরকার যেমন একটি নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। পরবর্তী সরকার ঠিক একইভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ওরা যেকোনো কিছু করতে পারে।
কমিটির যে সুপারিশ দিয়েছে তা বাস্তবায়ন করতে গেলে এক লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। এই ব্যয়ের অর্থের সংস্থান কোথায় থেকে হবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের যে কথা আপনারা বলছেন সেটা হবে যদি পে-কমিশনের সুপারিশ হুবহু বাস্তবায়ন করা হয় এবং একই সময়ে যদি সব বাস্তবায়ন করা হয়।
তিনি বলেন, আমি সরকারি কর্মকর্তা ছিলাম, বাস্তবতা হলো এ ধরনের পে-কমিশন একসঙ্গে সব বাস্তবায়িত হয় না, পর্যায়ক্রমে হয়। সম্ভবত একটি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে। অর্থের সংস্থান কীভাবে হবে, সেটিও সংশ্লিষ্ট কমিটি খতিয়ে দেখবে।
এ ধরনের সুপারিশ দিয়ে যাওয়ার কারণে পরবর্তী সরকারের জন্য চাপ হবে কি না? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা একটি সীমিত সময়ের সরকার। আমরা অনেক কাজ করছি যাতে আগামী সরকার উপকৃত হয়।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন পে-কমিশন নিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে একটা ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছিল। বিক্ষোভ হয়েছিল, নানা রকম। যাতে নতুন সরকার এসে এ ধরনের একটি অচল অবস্থা সম্মুখীন না হয়, আমরা চাচ্ছি নতুন যে সরকার আসবে তাদের যাত্রাপথ স্মুথ হয়। যেই সরকারই আসুক।
সুপারিশ গ্রহণ না করে এটা তো আপনারা পরবর্তী সরকারের জন্য রেখে যেতে পারতেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা কোনো সুপারিশ গ্রহণ করিনি। শুধু রিপোর্টটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং সুপারিশ পরীক্ষার জন্য শুধু একটা কমিটি গঠন করা হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন