বিএনপির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি ক্যাডেট মোতায়েনের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়েছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের ভোটগ্রহণ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচন উপলক্ষে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে স্থাপিত আইটি-সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালটে প্রদত্ত পোস্টাল ভোট গণনা কেন্দ্রে শৃঙ্খলা রক্ষায় রিটার্নিং অফিসার নির্দেশনা অনুসারে সহযোগিতা প্রদানের নিমিত্ত বিএনসিসি মোতায়েনের জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
এর আগে, বিএনসিসির ক্যাডেটদের কেন্দ্রে কেন্দ্রে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ইসি। তবে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল বিএনপি।
এদিকে, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনসিসি ক্যাডেটদের মোতায়েন নিয়ে বিএনপি উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছেন দলের জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
মাহদী আমিন বলেন, ‘বিএনসিসি ক্যাডেটদের মোতায়েন নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। কারণ তারা কোনো না কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। এতে নির্বাচন প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পর্যবেক্ষকদের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করতে হবে এবং যাদের কোনো দলীয় সংশ্লিষ্টতা আছে, তাদের বাদ দিতে হবে।’
বিএনসিসি সদস্যদের যুক্ত না করার দাবি জানিয়ে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান বলেন, এ কাজে তাদের যুক্ত করা হলে ছাত্র ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বিতর্কিত হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি)-এর ক্যাডেটরা ছাত্র। তাদের নির্বাচনের কাজে প্রথমবারের মতো যুক্ত করার সিদ্ধান্ত আমরা শুনেছি। ’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে বলেছি, ইয়াং, ছাত্র তাদেরকে সংসদ নির্বাচনের মতো জটিল রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা ঠিক হবে না।’
নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সেজন্য বেটার হবে, যদি তাদেরকে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা না হয়। আমরা জানতে পেরেছি, এটা যদি করা হয় তাহলে বলা হবে স্কাউটদেরকেও যুক্ত করা হোক। এর কদিন পর বলা হবে গার্লস গাইডদের যুক্ত করা হোক।’
তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বলে আইনে যাদেরকে উল্লেখ রয়েছে, তাদেরকে নির্বাচনের কাজে রাখা উচিত। তারা (ইসি) আমাদের কথার যৌক্তিকতা স্বীকার করেছেন।’
এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ১৬ হাজারের বেশি বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) সদস্যকে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যুক্ত করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘বিএনসিসির ১৬ হাজারের অধিক সদস্য যুক্ত হবে, উনারা নির্বাচনে ভলেন্টিয়ার হিসেবে কাজ করবেন। ‘তবে ওনাদের ডেপ্লয়মেন্ট প্ল্যান কে কোথায় কীভাবে এটা থাকবেন এবং তাদের কমান্ড স্ট্রাকচারটা কার অধীনে কীভাবে কাজ করবে, এই জিনিসটা আমরা আলোচনা করে ঠিক করব।’
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করবে ইসি। এবার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর আট লাখের বেশি সদস্য মোতায়েন থাকবে বলে ইসি আগেই জানিয়েছে। এছাড়া এক লাখের মতো থাকবে সেনা সদস্য। পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় আনসার ভিডিপি সদস্যরাও নির্বাচনে নিয়োজিত থাকবে বলে ইসি জানিয়েছে।



